রোববার, ১০ মে ২০২৬ , ০৭:৫০ পিএম
আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে আর কদিন বাদেই শুরু হচ্ছে আমের মৌসুম। শেষ মুহূর্তে তাই বাগানগুলোতে চলছে আম বাণিজ্যের প্রস্তুতি। দুই সপ্তাহ পরেই বাজারে আসবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম।
ব্যবসায়ী ও বাগানমালিকরা জানিয়েছেন, ঐতিহ্য মেনে এবারও তারা পরিপক্ব ও সুস্বাদু আমই ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেবেন। এখানকার গোপালভোগ, খিরসাপাত, রানিপছন্দসহ নানা জাতের আমের স্বাদ নিতে অপেক্ষায় থাকেন সবাই। ভোক্তাদের সেই অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। আর সপ্তাহ দুয়েক পরেই বাজারে আসবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম।
স্থানীয় গুটি জাতের আম দিয়েই শুরু হয় এখানকার আমের মৌসুম। এরপর একে একে আসে গোপালভোগ, খিরসাপাত, রানিপছন্দসহ বিভিন্ন জাতের আম। জিআই সনদ পাওয়া এ জেলার খিরসাপাত আমের খ্যাতি দেশজুড়েই। অনেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আমকেই হিমসাগর নামে কিনে খান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা গেছে, আম গাছের পরিচর্যা ও আম সংগ্রহের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন শ্রমিকরা। জেলা শহরের আনসার ক্যাম্পসংলগ্ন আমবাগানে গিয়ে কথা হয় আম উদ্যোক্তা সাইদ ইসলাম জাফরের সঙ্গে।
তিনি জানান, এবার ভালো মুকুল এসেছিল। তবে মাঝে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু গুটি ঝরে গেছে। তারপরও গাছে যে আম রয়েছে, তা পরিপক্ব হলেই বাজারজাত শুরু করবেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর এলাকার বাগানমালিক সুমন ইসলাম জানান, এবার প্রায় ৯৫ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছিল। শিলাবৃষ্টিসহ বিভিন্ন কারণে কিছুটা আমের ক্ষতি হয়েছে। তারপরও গাছে যে আম আছে, তাতেই খুশি। এখন বাজারে আমের ভালো দাম পাওয়াই তাদের প্রত্যাশা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীরা ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আম পরিপক্ব হলেই সংগ্রহ করে থাকেন। এ কারণে এ জেলায় বরাবরই কোনো ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ থাকে না। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রকৃতির নিয়মেই আম পরিপক্ব হবে। সেটিকে বাঁধাধরা ছকে বেঁধে ফেলার সুযোগ নেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার অনুপনগর ইউনিয়নের শহিন আলী জানান, গাছে আম পাকার লক্ষণ দেখা দিলেই আম পেড়ে বাজারে নিয়ে যাবেন। তিনি দাবি করেন, আচারের আম ছাড়া কেউই কাঁচা আম পাড়েন না। আচার ফ্যাক্টরির জন্য স্থানীয় গুটি জাতের আমগুলো কাঁচা অবস্থায় পাড়া হয়। তবে ভালো জাতের গোপালভোগ বা খিরসাপাত গাছে না পাকলে কেউ পাড়েন না।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাণিজ্যের একটি বড় অংশজুড়েই আছে ফেসবুকভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তাদের আম কেনাবেচা। এসব তরুণ উদ্যোক্তার অধিকাংশই চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন বাজার বা বাগান থেকে আম কিনে কুরিয়ারের মাধ্যমে ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেন। তবে এবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সংকটের কারণে কুরিয়ার খরচ নিয়েও চিন্তায় আছেন এসব মৌসুমি উদ্যোক্তা। তারা বলছেন, আম পরিবহনে যেন বাড়তি ভাড়া নেওয়া না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
এদিকে নিরাপদ ও পরিপক্ব আম সংগ্রহের বিষয়ে ফলবিজ্ঞানীরা নিয়মিতই বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দিচ্ছেন।
আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিন জানান, কোন কোন বিষয় দেখে পরিপক্ব আম গাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে, সে বিষয়ে নিয়মিতই বাগানমালিকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বালাইনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই দুই সপ্তাহের বিরতি দিয়ে আম সংগ্রহ করতে হবে। এতে ভোক্তার কাছে নিরাপদ আম পৌঁছাবে।
আরটিভি/টিআর