রোববার, ১০ মে ২০২৬ , ১০:১৮ পিএম
ঢাকার ধামরায়ের সোমভাগের তিনটি গ্রামে প্রায় ৫ হাজার একর কৃষিজমি দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধ হয়ে আছে। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরিষা, ধান, পাটসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত শিল্পকারখানা নির্মাণ, খাল দখল এবং মাটি ভরাটের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১০ মে) বিকেলে উত্তর জয়পুরা গ্রামের পশ্চিম পাশের এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্ষা মৌসুম শেষ হলেও জমির পানি এখনো নামেনি। আগে বর্ষার পানি দ্রুত নেমে যেত এবং ওই এলাকায় ধান, সরিষা ও পাটের চাষ হতো। কিন্তু বর্তমানে খাল দখল, ময়লা ফেলা এবং বিভিন্ন স্থানে বাঁধ নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশনের নালা বন্ধ হয়ে গেছে।
উত্তর জয়পুরা গ্রামের কৃষক মো. ছানোয়ার হোসেন (৭০) বলেন, জমির পানি বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ফলে আমরা ফসল উৎপাদন করতে পারছি না।
কৃষক মো. দুলুমিয়া বলেন, আগে এ সময়ে আমরা সরিষা চাষ করতাম। পরে ধান ও পাট আবাদ হতো। এখন জমিতে এত পানি জমে আছে যে ধান চাষ করাও কঠিন হয়ে গেছে। বিষয়টি ইউএনওকে জানিয়েছি, কিন্তু এখনো কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি।
আরেক কৃষক হারুণ মিয়া (৬৫) বলেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে জিয়াখালী নামে একটি খাল ছিল, যা একসময় পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরে খালটি দখল ও ময়লা ফেলে ভরাট করায় পানির চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
সোমভাগ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অপরিকল্পিত শিল্পকারখানা নির্মাণ, খাল দখল এবং মাছ চাষের জন্য পানির প্রবাহে বাঁধ দেওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান বলেন, অপরিকল্পিত শিল্পকারখানা ও খাল দখলের কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-মামুন বলেন, বিষয়টি আমি পরিদর্শন করেছি। হাইওয়ে সড়কের পাশে পানি নিষ্কাশনের খাল ভরাট হয়ে গেছে। খালটি পুনঃখননের জন্য বড় প্রকল্প প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
আরটিভি/টিআর