রোববার, ১০ মে ২০২৬ , ১০:৫২ পিএম
চাঁদপুরের কচুয়ার সাচারে নিখোঁজ হওয়া স্কুলছাত্র শাকিব হাসান (১৩) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে কচুয়া থানা পুলিশ।
রোববার (১০ মে) গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
পুলিশ সূত্র জানা গেছে, নিহত শাকিব হাসান কচুয়া উপজেলার ১নং সাচার ইউনিয়নের জয়নগর (গাজী বাড়ী) এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে বাইরে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে শাকিবের দাদা কচুয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
ছেলের নিখোঁজ হওয়ার খবর শুনে সৌদি আরব প্রবাসী বাবা আব্দুল কাদের দেশে ফিরে আসেন এবং সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেন। দীর্ঘ সময়েও কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবারে নেমে আসে হতাশা।
এরই মধ্যে গত বছরের ২৪ নভেম্বর স্থানীয় এক ব্যক্তি নিজের জমিতে ঘাস পরিষ্কার করতে গিয়ে ডোবার ভেতরে মানুষের মাথার খুলি ও হাড় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাথার খুলি ও হাড়ের সাতটি অংশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ উদ্ধারকৃত আলামত ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিআইডির মালিবাগ ফরেনসিক বিভাগে পাঠায়। পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, উদ্ধার হওয়া হাড় ও মাথার খুলি নিখোঁজ স্কুলছাত্র শাকিব হাসানেরই।
ডিএনএ রিপোর্ট ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর শাকিবের বাবা আব্দুল কাদের বাদী হয়ে কচুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান পিপিএম-এর সার্বিক নির্দেশনায় কচুয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হাই এবং কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম তদন্ত ও অভিযান শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। গত ৮ মে সন্ধ্যা থেকে ৯ মে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টার অভিযানে জয়নগর এলাকার আরমান গাজী (১৭) ও মেহেদী হাসান গাজী (১৭) নামে দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যার দায় স্বীকার করে জানায়, শাকিবকে পুকুরে গোসলের সময় পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ পানির নিচে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। রাতে মরদেহ তুলে হাত-পা কেটে বস্তাবন্দি করে নির্জন ডোবায় ইট বেঁধে ফেলে দেওয়া হয়, যাতে লাশ ভেসে উঠতে না পারে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আরটিভি/টিআর