রোববার, ১০ মে ২০২৬ , ১১:৩৫ পিএম
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় পালরদী নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ একটি পাকা সড়ক। গত দুই বছরে ফাসিয়াতলা-লক্ষ্মীপুর-পখিরা সড়কের প্রায় ৫০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। বর্তমানে কৃষিজমির পাশ দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও সাধারণ মানুষ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বর্ষায় এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সড়কটি কালকিনি উপজেলা সদরের সঙ্গে আলীনগর, এনায়েতনগর, লক্ষ্মীপুর ও পূর্ব এনায়েতনগর—এই চারটি ইউনিয়নের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন এই পথে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও রোগীসহ অন্তত ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় ৫০০ মিটার দূরত্বের পথ পাড়ি দিতে এখন সাধারণ মানুষকে প্রায় ৭ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার নিচের বালু সরে যাওয়ায় যাতায়াত বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। পণ্যবোঝাই ভ্যান বা রিকশা অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাচ্ছে।
একজন অভিভাবক সহিদুল ইসলাম জানান, নদীর ভাঙনে রাস্তার নিচ থেকে মাটি সরে গেছে। বাচ্চাদের নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে এখন খুব ভয় লাগে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
অটো ও ভ্যানচালক আফজাল ও শাহআলম জানান, বিকল্প পথে ঘুরে যেতে সময় ও ভোগান্তি দুটোই কয়েকগুণ বেড়েছে। ভাঙা অংশ দিয়ে গাড়ি চালানো এখন জীবন বাজি রাখার মতো।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তারা সরকারের কাছে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার এই আশঙ্কা নিয়ে কালকিনি উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, বিষয়টি তারা অবগত আছেন। তবে সড়ক সংস্কারের আগে নদীর ভাঙন রোধ করা জরুরি। তিনি বলেন, ভাঙন রোধে আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতা প্রয়োজন। তারা যদি টেকসই বাঁধ বা প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করে, তবেই সড়ক সংস্কারের স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে ভাঙন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা শুরুর আগেই পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডি সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে সড়কটি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।
আরটিভি/টিআর