images

দেশজুড়ে

লিচুর বাম্পার ফলনের আশায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চাষিরা

সোমবার, ১১ মে ২০২৬ , ০৯:৪৩ এএম

এখনও লাল রঙ ধরেনি। তবুও দূর থেকেই নজর কাড়ছে গাছে গাছে ঝুলে থাকা সবুজ লিচুর থোকা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লিচুর রাজধানীখ্যাত বিজয়নগরে শুরু হয়েছে লিচুকে ঘিরে কৃষকদের ব্যস্ততা। মৌসুম শুরুর আগেই বাজারে চাহিদা বাড়লেও চাষিরা বলছেন, অপরিপক্ব লিচু তুললে স্বাদ ও মান কমে যায়। তাই সময়ের অপেক্ষায় থেকে চলছে বাগানের নিবিড় পরিচর্যা।

উপজেলার বিভিন্ন বাগানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে কর্মচাঞ্চল্য। কেউ কীটনাশক ছিটাচ্ছেন, কেউ ডাল ছাঁটাই করছেন, আবার কেউ বাগানের চারপাশ পরিষ্কার রাখছেন। কৃষকদের লক্ষ্য একটাই মৌসুমে বাজারে উন্নত মানের রসালো ও সুস্বাদু লিচু সরবরাহ করা।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিজয়নগরে ছোট-বড় মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০টি লিচুর বাগান। এ চাষের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছেন প্রায় ৬৫০ থেকে ৭০০ কৃষক। বছরের এই সময়টায় লিচুকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।

লিচু চাষি শরিফ মিয়া বলেন, এবার লিচুর ফলন আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো হয়েছে। গাছে গাছে লিচু ধরেছে। তবে বাগানের পরিচর্যা করতে গিয়ে খরচও বেশি হয়েছে। বিশেষ করে শ্রমিকের মজুরি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তারপরও আশা করছি বাজারে ভালো দাম পেলে সেই খরচ উঠে আসবে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

বন বিভাগের গাছ কাটার অভিযোগ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

আরেক চাষি তাবরীজ সরকার বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার লিচুর ফলন ভালো পেয়েছি। কিন্তু শ্রমিক সংকট আর বাড়তি মজুরির কারণে বাগান দেখাশোনায় খরচ অনেক বেড়েছে। এখন আমাদের একটাই আশা, মৌসুমে যেন লিচুর দাম ভালো থাকে।

চাষিরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই লিচু পরিপক্ব হবে। এর আগে গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করলে মিষ্টতা ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আগাম বাজার চাহিদা থাকলেও এখনই লিচু তুলতে চান না তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জিয়াউল ইসলাম বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে গাছে ভালো ফলন এসেছে। রোগবালাইও তুলনামূলক কম। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মৌসুমে বিজয়নগরে প্রায় ২৫ কোটি টাকার লিচু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

আরটিভি/এমএইচজে