সোমবার, ১১ মে ২০২৬ , ০২:০৩ পিএম
পার্বত্যাঞ্চলে কৃষকদের বাতিঘর হিসেবে সুপরিচিত রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের কৃষি বিজ্ঞানীরা এবার কাজুবাদাম চাষে সফলতা অর্জন করেছেন।
গবেষণা কেন্দ্রের ২ একর এলাকায় কাজু বাদামের চাষ করা হয়েছে। এবার গাছগুলোতে বেশ ফল এসেছে।
সোমবার (১১ মে) সকালে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারিভাবে লাগানো কাজুবাদাম গাছগুলোতে ফল ধরেছে। এ যেন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। দিগন্ত বিস্তৃত পাহাড়ের বুকে সবুজ ক্ষেতে কাজুবাদামের সমাহার।
এ বিষয়ে রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান বলেন, ২০১৯ সালে ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া এবং বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কাজুবাদামের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করে রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ২ একর জমিতে রোপণ করা হয়।
রোপণের ৩ বছর পর ২০২২ সালে প্রথম ফল ধরে। বর্তমানে গাছগুলোর বয়স ৭ বছরের বেশি। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে বেশি করে ফল ধরছে প্রতিটি কাজুবাদাম গাছে।
তিনি আরও বলেন, কাজুবাদাম বিশ্বের বাদাম জাতীয় ফসলের মধ্যে প্রথমস্থান দখল করে আছে। এর প্রতিটি গাছে ২০ থেকে ৩০ কেজি ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি ফলের ওজন গড়ে ৩০ থেকে ৬০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ ছাড়া প্রতিটি কাজুবাদাম নাটের ওজন ৫ থেকে ১০ গ্রাম হয়ে থাকে।
কাজুবাদামে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আমিষ, চর্বি, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি। কাজুবাদামে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, পলিফেনল ও ক্যারিটনয়েড আছে। যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ও মস্তিস্কের শক্তি বৃদ্ধি করে।
এতে খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে। ব্লাড প্রেসার ও ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে কাজুবাদামের ভূমিকা অপরিসীম।
রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা বলেন, বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে প্রায় ৫ লাখ হেক্টর জমি অনাবাদী রয়েছে।
এর মধ্যে যদি ১ লাখ হেক্টর জমিতে কাজুবাদাম চাষ করা যায় তাহলে ১ লাখ টন কাজুবাদাম উৎপাদন করা সম্ভব। দেশে ভালো মানের কাজুবাদাম উৎপাদন করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা যেমন সাশ্রয় হবে, তেমনি কাজুবাদাম রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে।
এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেকের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং বিশেষ করে নারীরা স্বাবলম্বী হতে পারবে। পাহাড়ে সম্ভাবনাময় কাজু বাদাম চাষের বিস্তৃতি বাড়াতে এখন প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ।
সূত্র: বাসস
আরটিভি/আইএম