সোমবার, ১১ মে ২০২৬ , ০৩:১৪ পিএম
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরু চোর সন্দেহে তিন ব্যক্তির নিহতের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আড়াই শতাধিক গ্রামবাসীর নামে হত্যা মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এতে কয়েকটি গ্রামের মানুষের মধ্যে গ্রেপ্তার আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানিয়েছে গ্রামবাসী।
রোববার (১০ মে) রাতে কালিয়াকৈর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে এ মামলা করেছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় গরুর খামারের মালিক আবু বক্কর বাদী হয়ে নিহত চোরসহ ৭-৮ জন চোরের নামে আরেকটি মামলা করেছে।
সোমবার (১১ মে) কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের আওতায় বিভিন্ন গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে গরু চোর, ছিনতাই, মাদকসহ নানা ঘটনা ঘটে আসছে। এ নিয়ে পুলিশের তেমন কোনো ভূমিকা না থাকায় হতাশায় দিন কাটছে এলাকাবাসীর। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের যোগসাজশে এসব অপরাধমূলক কাজ চলছে। পরে এলাকার লোকজন গত কয়েকদিন ধরে রাতে বিভিন্ন স্থানে ৫ জনের একটি গ্রুপে পাহারা দিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার দিবাগত রাতে পিকআপযোগে উপজেলার সলংগা এলাকায় ৮ থেকে ১০জন চোর চক্রের দল গরু চুরির চেষ্টা করলে এলাকাবাসী ধাওয়া দেয়। পরে পিকআপটি ধরতে পিছনে একটি মোটরসাইল ধাওয়া দিয়ে বাকচালা এলাকায় পৌঁছালে পিকআপটির গতিরোধ করে। পরে উত্তেজিত জনতা পিকআপটিতে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় তিনজনকে পিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই সেলিম নামে একজন নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়িটির আগুন নিয়ন্ত্রণ আনে। ততক্ষণে গাড়িটি পুড়ে যায়। পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাইজুদ্দিন আহম্মেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে বাকচালা এলাকার আবু বকর বাদী হয়ে রোববার দুপুরে থানায় একটি অভিযোগ করে। তবে আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছেন পুলিশ।
ওসি শহীদুল ইসলাম জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে