সোমবার, ১১ মে ২০২৬ , ০৬:৩২ পিএম
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা সরকারি গান্ডতা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং পরীক্ষায় ভুল সেট কোডের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ করার অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১০ মে) সকাল ৯টায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ড থেকে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং পরীক্ষা ‘১ নম্বর সেট’ প্রশ্নপত্রে নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
বোডের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার কেন্দ্রে নির্ধারিত সেটের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করার কথা ছিল। কিন্তু সরকারি গান্ডতা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার ও কেন্দ্র সচিব বিষয়টি যথাযথ ভাবে যাচাই না করেই ‘৩ নম্বর সেট’ প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহন করেন। পরীক্ষার্থীরা সেই প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা সম্পন্ন করে।
পরীক্ষা শেষে অন্য কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশ্ন মিলিয়ে দেখার সময় বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর থেকেই কেন্দ্রের ৩২ জন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার ও হুরায়রা আক্তার বলেন, আমরা পরীক্ষা শেষ করে বাইরে এসে আমাদের স্কুলের কেন্দ্রে অন্য স্কুলের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশ্ন মিলিয়ে বুঝতে পারি আমাদের সেট আলাদা ছিল। এরপর থেকেই দুশ্চিন্তায় আছি, ফলাফলে কোনো সমস্যা হবে কিনা।
সরকারি গান্ডতা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক মো. নান্না মিয়া বলেন, আমার মেয়ে সরকারি গান্ডতা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। তার ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং পরীক্ষা ৩ নম্বর সেট কোড প্রশ্নপত্রে নেওয়া হয়েছে। পরে জানতে পারি বোর্ড থেকে ১ নম্বর সেট কোডে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে আলাদা সেট কোডে পরীক্ষা হওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা না হলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাবে।
এ ব্যাপারে ওই কেন্দ্রের সচিব প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং পরীক্ষা ‘১ নম্বর সেটে’ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভুলবশত ‘৩ নম্বর সেটে’ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ইউএনও এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, বিষয়টি অবগত হওয়ার পর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বলেছেন এতে পরীক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না। যে প্রশ্নে পরীক্ষা হয়েছে, ওই প্রশ্নেই খাতা মুল্যায়ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিবকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। আর যারা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।
এ বিষয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জি. এম. শহীদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পর পরীক্ষা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। যেহেতু পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, তাই ওই কেন্দ্রের ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং পরীক্ষাটি সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের আলোকেই মূল্যায়ন করা হবে। এর জন্য শিক্ষার্থীদের ফলাফলে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। যারা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
আরটিভি/এসএস