images

দেশজুড়ে

৪ বছর বয়সেই ৫২ কেজি ওজন আরাফাতের, ঘটনা কী?

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ , ১২:৩৩ পিএম

জন্মের সময় ওজন ছিল মাত্র আড়াই কেজি। কে জানত, কয়েক বছর যেতে না যেতেই সেই ওজনই হবে ছোট্ট শিশু আরাফাতের জীবনের সবচেয়ে বড় বোঝা! মাত্র ৪ বছর ৮ মাস বয়সে ৫২ কেজি ওজন নিয়ে এখন ঘরের কোণে দিন কাটছে নওগাঁর পত্নীতলার এই শিশুটির। যেখানে সমবয়সীদের ওজন সাধারণত ১৫-১৮ কেজি হয়, সেখানে আরাফাতের ওজন এখন একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সমান।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জন্মের দুই-তিন মাস পর থেকেই আরাফাতের ওজন অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। শুরুতে বাবা-মা ভেবেছিলেন শিশুটি সুস্থ ও পুষ্ট হচ্ছে, কিন্তু ছয় মাস পার হতেই ওজন ১২ কেজি ছাড়িয়ে যায়। তখনই টনক নড়ে পরিবারের। 

চিকিৎসকরা জানান, এটি কোনো সাধারণ স্থূলতা নয়; বরং এটি শরীরের গ্রোথ হরমোনের এক জটিল সমস্যা।

Capture

আরাফাত জানায়, সে একটু হেঁটে সমনে গেলে হাঁপিয়ে ওঠে। তার শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা হয়। তাই বাড়ি ও সামনের পুকুর ঘাট ছাড়া সে আর কোথাও যেতে পারে না। তার প্রিয় খাবার কাচ্চি বিরিয়ানি। তাকে কেউ দেখতে এলে খাবার নিয়ে আসে। সে খেতে খুব ভালোবাসে। 

কিন্তু এমন অস্বাভাবিক নয়, সবার মতো আরাফাত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়।

আরাফাতের বাবা আবু সাঈদ পেশায় একজন দিনমজুর এবং মা আখতার বানু গৃহিণী। টানাপোড়েনের সংসারে ছেলের চিকিৎসার খরচ চালানো তাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। 

মা আখতার বানু আক্ষেপ করে বলেন, ‘ছেলেটা যা খায় তাতেই যেন ওজন বেড়ে যায়। এখন তো ও ঠিকমতো হাঁটতেও পারে না। ডাক্তার বলেছে প্রতি মাসে দুটি দামি ইনজেকশন দিতে হবে, কিন্তু আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা পাব কোথায়?’

Capture2

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, আরাফাতকে সুস্থ করতে প্রতি মাসে দুটি বিশেষ ইনজেকশন দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিটির বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে আট হাজার টাকা। অর্থাৎ, প্রতি মাসে চিকিৎসার পেছনে ১৭ হাজার টাকা খরচ করা অসহায় এই পরিবারের পক্ষে পাহাড়সম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।  

পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খালিদ সাইফুল্লাহ জানান, শিশুটির শরীরে গ্রোথ হরমোন প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি নিঃসরণ হচ্ছে। একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা করালে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো সম্ভব। এই চিকিৎসার ব্যবস্থা বাংলাদেশেই রয়েছে, তবে তা ব্যয়বহুল।

অন্য দশটি সাধারণ শিশুর মতো মাঠে দৌড়াদৌড়ি করতে চায় আরাফাতও। ফিরতে চায় স্বাভাবিক শৈশবে। কিন্তু টাকার অভাবে থমকে আছে তার চিকিৎসা। সমাজের সামর্থ্যবান ও মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষেরা এগিয়ে এলে হয়তো আবারও সুস্থভাবে বাঁচতে পারবে এই ছোট্ট শিশুটি।

আরটিভি/আইএম