images

দেশজুড়ে

এবার বরিশালে টাকার জন্য অক্সিজেন খুলে নিলেন কর্মচারী, রোগীর মৃত্যু

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ , ০১:৩৮ পিএম

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাত্র ২০০ টাকার জন্য দিপালী সিকদার (৪০) নামে এক মুমূর্ষু রোগীর মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রোগীর মৃত্যুর পর অভিযুক্ত কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১৩ মে) বিকেলে হাসপাতালের ওপিডি ভবনের মেডিসিন বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দিপালী সিকদার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব খরকি গ্রামের বাসিন্দা এবং শংকর সিকদারের স্ত্রী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সোহেল নামের ওই কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হচ্ছে।

নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন দিপালী। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত মেডিসিন বিভাগে স্থানান্তর করেন এবং টানা অক্সিজেন দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে, শয্যা সংকট ও অক্সিজেন পয়েন্টের সমস্যার কারণে তাকে ট্রলিতে রেখেই অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল।

দিপালীর ভাই মিলন হাওলাদার বলেন, মেডিসিন ইউনিট-১ এর কর্মচারী সোহেল পাশের আরেক রোগীর স্বজনের কাছ থেকে ২০০ টাকা নিয়ে ট্রলি সরিয়ে নিতে চান। এ সময় তিনি দিপালীর অক্সিজেন লাইন খুলে দেন। পরিবারের সদস্যরা অনুরোধ করলেও তিনি তা শোনেননি। অক্সিজেন বিচ্ছিন্ন করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই দিপালীর মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন
Web-Image

ঢামেকে অক্সিজেন মাস্ক খুলে নিলো দালাল, প্রাণ গেল শিশুর

এদিকে রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত কর্মচারীকে আটক করে মারধর করেন। পরে হাসপাতালের অন্যান্য স্টাফ ঘটনাস্থলে এলে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কিছু সময়ের জন্য হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয় এবং রোগী-স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে।  

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন। দায়িত্বরত আনসার সদস্য নিঠুর রঞ্জন জানান, উত্তেজিত স্বজনরা সোহেলকে মারধর করছিলেন। পরে আনসার সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত কর্মচারী হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

এ ঘটনায় দিপালীর পরিবার হাসপাতাল পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। 

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মৃতের স্বজনদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগের দিনই একইরকম আরেকটি ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাণ গেছে কিডনি জটিলতায় ভুগতে থাকা ৭ মাস বয়সী এক শিশুর। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে হাসপাতাল থেকে মিনহাজ নামের মুমূর্ষু শিশুটিকে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে তার অক্সিজেন মাস্ক জোর করে খুলে নেয় এনায়েত করিম নামে এক দালাল। 

শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, রোগীকে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার উদ্দেশে মিনহাজের মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলেন এনায়েত। এরপর প্রায় ২০ মিনিট মাস্ক ছাড়াই তাকে হাসপাতালের ভেতরে ঘোরাঘুরি করানো হয়। পরে ২ নম্বর ভবনের গেট দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় স্বজনরা বুঝতে পারেন, শিশুটি আর বেঁচে নেই।

এ ঘটনায় এনায়েত করিম নামে ওই দালালকে আটক করেছে পুলিশ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত এনায়েত করিমের বিরুদ্ধে আগেও নানা অভিযোগ রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের সার্টিফিকেট দেয়ার নামে অর্থ দাবি করায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। বরখাস্ত অবস্থাতেও তিনি হাসপাতাল এলাকায় দালালি ও প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। 

আরটিভি/এসএইচএম