শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ , ০৮:২২ পিএম
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ঘোড়দৌড় বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে অজ্ঞাত এক পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি গাজীপুরের বহুল আলোচিত পাঁচ খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইলিয়াস।
পুলিশ জানায়, পদ্মা সেতু থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে লৌহজং উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা নৌ পুলিশে খবর দেয়। পরে নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
এদিকে, মরদেহ উদ্ধারের পর গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার পুলিশ এবং ফোরকান মোল্লার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এ সময় তার ভাই আব্দুল জব্বার এবং কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জুবায়ের রহমান মরদেহটি ফোরকানের বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছেন।
মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইলিয়াস জানান, মরদেহটি অর্ধগলিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। পরিচয় নিশ্চিত করতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট অথবা প্রয়োজন হলে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, ডুবুরি দল ও কাপাসিয়া থানার পুলিশের সহায়তায় ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয় এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গাজীপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন জানান, পাঁচ খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি প্রাইভেটকার থেকে নেমে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনটি ফুটপাথে রেখে কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর রেলিং টপকে নদীতে ঝাঁপ দেন। ওই ব্যক্তিকে ফোরকান বলে সন্দেহ করা হলেও চেহারা স্পষ্ট না হওয়ায় তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে, গত সোমবার (১১ মে) মেহেরপুরে এক বাস হেলপারের কাছ থেকে ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, পদ্মা সেতুর ওপর থেকে মোবাইলটি কুড়িয়ে পেয়েছিলেন।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর ফোরকানকে গ্রেপ্তারে একাধিক টিম দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। তবে এখন পর্যন্ত অন্য কোনো সহযোগীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, গত ৮ মে দিবাগত রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন কন্যা এবং শ্যালকসহ পাঁচজন নিহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা।
আরটিভি/এমএইচজে