রোববার, ১৭ মে ২০২৬ , ১১:৫৯ এএম
খাগড়াছড়ির রামগড়ে যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা ইউপিডএফের সদস্য বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানের সময় গোলাগুলির ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ হন।
আটকরা হলেন– সাথোয়াই মারমা (৩৫), রনেল চাকমা (২৮) ও সার্চিং মারমা ওরফে রাজু (১৯)। এদের মধ্যে সাথোয়াই মারমা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
এদের মধ্যে রনেল চাকমা ইউপিডিএফের কালেক্টর ও অপর দুজন সংগঠনটির সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার দিবাগত রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বেলা আনুমানিক ১২টায় পার্বত্য চট্টগ্রামের গুইমারা রিজিয়নের বুদংছড়া এলাকায় অবস্থান নেয় সেনাবাহিনীর একটি আভিযানিক দল। এসময় দুটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী ঘটনাস্থল পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেনাসদস্যরা তাদের থামার নির্দেশ (চ্যালেঞ্জ) দেন।
তবে সন্ত্রাসীরা সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করে আকস্মিক গুলিবর্ষণ শুরু করে।
আত্মরক্ষার্থে সেনাসদস্যরাও তাৎক্ষণিক পাল্টা গুলি চালান। এই গোলাগুলিতে পাহাড়ি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (মূল) দলের সদস্য সাথোয়াই মারমা (৩২) ঘাড়ে গুলিবিদ্ধ হন।
পরে ঘটনাস্থল থেকে ইউপিডিএফ (মূল) দলের পোস্ট কালেক্টর রনেল চাকমাসহ (২৮) সার্চিং মারমা ওরফে রাজু (২২) নামের অপর দুজনকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং চাঁদাবাজির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
আইএসপিআর আরও জানায়, অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে ম্যাগাজিনসহ ১টি একে-২২ রাইফেল, ৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১টি ব্যবহৃত (ফায়ারকৃত) কার্তুজ এবং চাঁদাবাজির আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
গোলাগুলিতে আহত ইউপিডিএফ সদস্য সাথোয়াই মারমাকে ঘটনার পরপরই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পুলিশি হেফাজতে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর এমন কঠোর ও নিয়মতান্ত্রিক অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আরটিভি/টিআর