মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ , ০২:০৬ পিএম
উপযুক্ত তদারকি ও দীর্ঘদিনের অবহেলায় প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত একমাত্র শিশুপার্কটি। একসময়ের মুখরিত এই বিনোদন কেন্দ্রটি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন এক পরিত্যক্ত ময়দানে পরিণত হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, আওয়ামী সরকারের আমলে জেলা ও উপজেলা পরিষদ এবং উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ অর্থায়নে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলা বিআরডিবি কার্যালয়ের পেছনে আনুমানিক ৬ থেকে ৮ শতাংশ জায়গার ওপর শিশুদের মানসিক বিকাশ ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে এই পার্কটি নির্মিত হয়েছিল।
সরেজমিনে পার্কটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ চিত্র। শিশুদের বিনোদনের জন্য বসানো রাইডগুলোর বেশিরভাগই ভেঙে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকায় অনেক রাইডে মরিচা ধরে সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙাচোরা লোহালক্কড় ও সরঞ্জাম। দীর্ঘকাল কোনো ধরনের সংস্কার কাজ না হওয়ায় পুরো পার্কটি এখন জরাজীর্ণ ও ভুতুড়ে রূপ ধারণ করেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মোক্তার হোসেন ফকির পার্কের এই দুর্গতির জন্য সরাসরি প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের একটু সদিচ্ছা ও যথাযথ উদ্যোগ থাকলে এই পার্কটিকে পুনরায় সচল করা সম্ভব। এটি চালু হলে এলাকার শিশুরা আবার তাদের বিনোদনের জায়গা ফিরে পাবে।
পার্কের পূর্বের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে স্থানীয় বাসিন্দা সামসুন্নাহার বলেন, কয়েক বছর আগেও আমরা পরিবারের শিশুদের নিয়ে এখানে নিয়মিত আসতাম। কিন্তু এখন এটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত। যদি বর্তমান জায়গায় সমস্যা থাকে, তবে স্থান পরিবর্তন করে হলেও পার্কটি যেন দ্রুত চালু করা হয়। পাশাপাশি এখানে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিবেশ তৈরি না হয়, সেজন্য নিরাপত্তা জোরদার করা দরকার।
অবশ্য এই পার্কটি নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলুর রশিদ শিকদার। তার মতে, পার্কটির জমি সংক্রান্ত কিছু জটিলতা রয়েছে। এছাড়া পার্কটিকে কেন্দ্র করে কিশোর-কিশোরীদের অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে তিনি এটি বন্ধ রাখার পক্ষেই মত প্রকাশ করেন।
এদিকে জমির মালিকানা প্রসঙ্গে উপজেলা পল্লি উন্নয়ন কর্মকর্তা রিপন খন্দকার স্পষ্ট করেন যে, বিআরডিবির নিজস্ব কোনো জমি নেই। পার্কটি যে জায়গায় অবস্থিত, সেটি মূলত উপজেলা পরিষদেরই মালিকানাধীন জায়গা।
পার্কটির ভবিষ্যৎ ও বর্তমান দশা নিয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান জানান, তিনি সম্প্রতি এই উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। পার্কটির সার্বিক সমস্যা ও বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
আরটিভি/এমএইচজে