বুধবার, ২০ মে ২০২৬ , ০৯:২২ এএম
স্ত্রীর কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে নিজের দুই সন্তানকে অপহরণকারী চক্রের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। অপহরণের এক মাস পর দুই শিশুকে উদ্ধার করেছে নারায়ণগঞ্জ পিবিআই।
মঙ্গলবার (১৯মে) সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান নারায়ণগঞ্জ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে ঝর্না আক্তারের সঙ্গে মেজবাহ উদ্দিনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে পাঁচ বছর বয়সি আরিয়ান ও ২৮ দিন বয়সি আব্দুর রহমান জুবায়েত নামে দুই সন্তান রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই মেজবাহ উদ্দিন বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করতেন। পাশাপাশি তিনি স্ত্রীকে নিয়মিত টাকার জন্য চাপ দিতেন। টাকা না দিলে সন্তানদের বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দিতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২১ এপ্রিল সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি বুকস গার্ডেন এলাকা থেকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দুই সন্তানকে অপহরণ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, শিশু দুটিকে অপহরণে মেজবাহ উদ্দিনকে সহায়তা করেন তার পূর্বপরিচিত অপহরণকারী চক্রের সদস্য এমদাদুল হক রাব্বানী।
পরে ভুক্তভোগী মা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন, শিশু দুটিকে পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছে। সন্তানদের খোঁজ না পেয়ে তিনি গত ১৩ মে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে নেমে গত ১৮ মে গভীর রাতে রাজধানীর বনানী কড়াইল বস্তির টিএনটি গেট এলাকা থেকে মূলহোতা এমদাদুল হক রাব্বানীকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুর-ই-নাসরিন নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ২৮ দিন বয়সি শিশু আব্দুর রহমান জুবায়েতকে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ১৩ মে রাতে সাভারের আড়াপাড়া এলাকার নিঝুমনিবাস এলাকা থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশু আরিয়ানকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশু দুটির বাবা মেজবাহ উদ্দিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, প্রাথমিক তদন্তে এমদাদুল হক রাব্বানী একটি সক্রিয় মানব পাচার চক্রের সদস্য বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারকে টার্গেট করে শিশু সংগ্রহ ও পাচার করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক শিশুপাচারের তথ্য-প্রমাণও মিলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
তদন্তে আরও জানা গেছে, মেজবাহ উদ্দিন মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি একাধিক বিয়ে করে নিজের সন্তানদের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত এমদাদুল হক রাব্বানীর পাঁচ দিনের এবং নুর-ই-নাসরিনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে মেজবাহ উদ্দিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই জানিয়েছে, চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং আরও পাচার হওয়া শিশুদের উদ্ধারে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আরটিভি/এসকে