বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ , ০৪:২৭ পিএম
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের পাচাউন এলাকায় একটি বসতঘরের সিলিং থেকে বিশাল আকৃতির একটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা সাপটি উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।
জানা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার পাচাউন এলাকার বাসিন্দা খলিল মিয়া ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরের সিলিংয়ের বাঁশের ওপর একটি বড় আকৃতির অজগর সাপ দেখতে পান। হঠাৎ ঘরের ভেতরে অজগর সাপ দেখতে পেয়ে পরিবারের সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। এ সময় স্থানীয় কিছু লোক সাপটিকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। পরে গ্রামের এক ব্যক্তি বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
উদ্ধার হওয়া অজগর সাপটি এক নজর দেখতে ঘটনাস্থলে হাজারো মানুষ ভিড় করেন। পরে উদ্ধারকৃত সাপটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা জানান, বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় খাবারের সন্ধানে মাঝে মধ্যেই বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসে। এ ধরনের প্রাণী দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, অজগর নির্বিষ সাপ। এটি নিশাচর ও খুবই অলস প্রকৃতির, প্রয়োজন ছাড়া নড়াচড়াও করে না। এই প্রজাতিটি গাছে একাকী বাস করলেও শুধু প্রজননকালে জোড়া বাঁধে। সাধারণত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে এদের প্রজননকাল। দেশের ম্যানগ্রোভ বন, ঘাসযুক্ত জমি, চট্টগ্রাম ও সিলেটের চিরসবুজ পাহাড়ি বনে এদের দেখা পাওয়া যায়। সাপটি সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে না। খাদ্য হিসেবে এরা ইঁদুর, কচ্ছপের ডিম, সাপ, বন মুরগি, পাখি, ছোট বন্যপ্রাণী ইত্যাদি খায়। সাপটি নিজের আকারের চেয়েও অনেক বড় প্রাণী খুব সহজেই গিলে খেতে পারে।
জোহরা মিলা বলেন, চামড়ার জন্য সাপটি পাচারকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে আমাদের বনাঞ্চল থেকে এটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর তফসিল-২ অনুযায়ী এ বন্যপ্রাণীটি সংরক্ষিত, তাই এটি হত্যা বা এর যে কোনো ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আরটিভি/এসএস