শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ , ১১:৪১ এএম
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ছোট শিংগা গ্রামের গৃহিণী বনানী রানী বাড়ির আঙিনায় ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বিতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রায় ১৬ বছর আগে ছোট পরিসরে শুরু করা এই উদ্যোগ আজ তার পরিবারের প্রধান আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে, বনানী রানী প্রতিদিন ভোরে বিভিন্ন স্থান থেকে গোবর সংগ্রহ করে নিজস্ব কম্পোস্ট ইউনিটে প্রক্রিয়াজাত করেন। কেঁচোর সাহায্যে তৈরি এই জৈব সার স্থানীয় কৃষকদের কাছে ব্যাপক চাহিদা তৈরি করেছে। পরিবেশবান্ধব হওয়ায় দিন দিন ভার্মি কম্পোস্ট সারের ব্যবহারও বাড়ছে। তার উৎপাদিত সার দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
বনানী রানী জানান, শুরুতে সমাজের অনেকেই তার কাজকে অবজ্ঞার চোখে দেখতেন। এমনকি তার হাতের এক কাপ চা খেতেও অনেকে অনীহা প্রকাশ করতেন। তবে সব বাধা উপেক্ষা করে তিনি নিজের কাজ চালিয়ে যান।
তিনি বলেন, মানুষ আমাকে ঘৃণা করত। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। এই কাজের আয় দিয়ে পরিবারের খরচ চালাই এবং ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার ব্যয় বহন করি।
তার এই সফলতা দেখে স্থানীয় অনেক নারী ও কৃষক ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। স্থানীয় কৃষি অফিস থেকেও তিনি বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেয়েছেন বলে জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুন নেছা সুমি জানান, রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে জৈব সার কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বনানী রানীর মতো উদ্যোক্তারা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাও গড়ে তুলছেন।
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন সময়ে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হয়েছে।
আরটিভি/টিআর