শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ , ১২:০১ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহা যতই ঘনিয়ে আসছে, ময়মনসিংহের ভালুকার পশুর হাটগুলোতে ততই বাড়ছে কোরবানির পশুর সরবরাহ। স্থানীয় খামারি ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যাপারীদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠেছে হাটপ্রাঙ্গণ। তবে হাটে পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও এখনও আশানুরূপ জমেনি বেচাকেনা। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা নেই। আর ক্রেতাদের দাবি—সময় বাকি থাকায় তারা আপাতত বাজার যাচাই করছেন।
শুক্রবার (২২ মে) সরেজমিনে ভালুকার পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট, বড় ও মাঝারি—সব ধরনের গরুর প্রচুর আমদানি হয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় ক্রেতাসমাগম কম। দু-একজন ক্রেতা এলেও তারা দরদাম করেই চলে যাচ্ছেন। ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত দামে পশু বিক্রি করতে না পেরে হতাশ খামারি ও ব্যাপারীরা।
হাটে আসা কয়েকজন বিক্রেতা জানান, পশুখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় এবার গরু লালন-পালনে খরচ অনেক বেড়েছে। বাজারে পশুর কমতি না থাকলেও ক্রেতা মিলছে না। শেষ পর্যন্ত লোকসান গুনতে হয় কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা। আবু তাহের নামে এক বিক্রেতা জানান, পশুর দাম স্বাভাবিক থাকলেও ক্রেতা মিলছে না। সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতার অপেক্ষায় থেকেও বিক্রি না হওয়ায় গরু বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে।
এদিকে বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো হলেও বেশিরভাগই এসেছেন বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে। ক্রেতাদের দাবি, ঈদের এখনো বেশ কয়েকদিন বাকি রয়েছে। এখনই পশু কিনলে তা রাখা ও রক্ষণাবেক্ষণের বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হবে। তাই শেষ মুহূর্তের অপেক্ষায় তারা এখন কেবল দাম যাচাই করছেন। ফারুক আহামেদ, আবু হানিফা, হামেদ আলী ও দেলোয়ার হোসেন নামে কয়েকজন ক্রেতা জানান, ঈদের এখনো বেশ কয়েকদিন বাকি। এখনই পশু কিনলে বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হবে। অনেকেরই পশু রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এখনই আশাহত হতে রাজি নন হাট কর্তৃপক্ষ ও ইজারাদাররা। তারা আশা করছেন, আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই হাটের এই চিত্র পুরোপুরি পাল্টে যাবে। শেষ মুহূর্তে চাকরিজীবী ও স্থানীয় ক্রেতাদের ঢল নামবে এবং বেচাকেনা পুরোদমে জমজমাট হয়ে উঠবে।
আরটিভি/টিআর