images

দেশজুড়ে

ভুল চিকিৎসায় হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ , ০১:০৯ পিএম

নোয়াখালীতে ভুল চিকিৎসায় হামে আক্রান্ত মাহিয়া আক্তার (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারের (স্যাকমো) বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে উপজেলার করমুল্যা বাজারে ইউনিয়ন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (স্যাকমো) মো. সিরাজুল ইসলামের ফার্মেসিতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মাহিয়া উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভূঁইয়া বাড়ির মো. করিমের মেয়ে। অভিযুক্ত মো. সিরাজুল ইসলাম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (স্যাকমো) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

নিহতের মামা মো. মুরাদ জানান, গত রোববার তার ভাগনি মাহিয়ার শরীরে হালকা জ্বর দেখা দিলে তার মা কামরুন নাহার শিশুটিকে করমুল্যা বাজারের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার সিরাজুল ইসলামের ফার্মেসিতে নিয়ে যান। পরে মঙ্গলবার মাহিয়ার মুখে ঘা দেখা দিলে সিরাজুল তাকে পরীক্ষা করে হাম হয়েছে বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি আরও কয়েকজন হাম আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা দিচ্ছেন বলেও পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করেন।

তার অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে মাহিয়ার মা পুনরায় শিশুটিকে ওই ফার্মেসিতে নিয়ে যান। এ সময় সিরাজুল সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। পরে তিনি মোবাইল ফোনে পাশের দোকানের এক ব্যক্তিকে মাহিয়ার শরীরে স্যালাইন পুশ করতে বলেন। স্যালাইন দেওয়ার পর মাহিয়ার মা শিশুটিকে নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দেন। কিছু দূর যাওয়ার পর শিশুটির খিঁচুনি শুরু হয়। পরে তাকে মাইজদীর মাও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, একজন স্যাকমোর হাম রোগের চিকিৎসা করার কোনো সুযোগ নেই। অথচ তিনি চিকিৎসা করেছেন। আমরা অভিযোগ করলে ময়নাতদন্ত হবে ভেবে প্রশাসনকে বিষয়টি জানাইনি।

অভিযুক্ত মো. সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ নাকচ করে বলেন, শিশুটি হামে আক্রান্ত বলে তার পরিবারকে জানিয়েছি। একই সঙ্গে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য লিখে দিয়েছি। আজ তাকে নিয়ে আসলে আমি চেম্বারে ছিলাম না। চিকিৎসা দেওয়ার পর শিশুর অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. আনার হোসেন বলেন, পল্লী চিকিৎসক কোনোভাবেই হাম আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা করতে পারেন না। নিহতের পরিবার আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

এ বিষয়ে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নিহত শিশুর পরিবারকে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে তারা মামলা করতে রাজি হয়নি। পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই শিশুটির দাফন সম্পন্ন করা হয়।

আরটিভি/টিআর