রোববার, ২৪ মে ২০২৬ , ১১:০৬ এএম
তিন জমজ সন্তানের দুমুঠো খাবার জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে ভ্যানচালক এই শিরোনামে গত (২২ মে) দেশের বহুল জনপ্রিয় মাধ্যম আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর ওই পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল।
সংবাদটি নজরে আসার পর প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল তার এপিএস আব্দুস সালামকে শনিবার (২৩ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভ্যানচালক রেজাউল করিমের বাড়িতে পাঠান। এপিএস রেজাউল করিম পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং স্ত্রী মুনাফ বেগমের হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন। এছাড়া পরিবারটিকে আশ্বস্ত করে বলেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল ঢাকা আছেন। তিনি এসে আপনাদের পরিবারের জন্য স্থায়ীভাবে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা করবেন।
নাটোর লালপুর উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের ইসমাইল মন্ডলের ছেলে ভ্যানচালক রেজাউল করিম (৩৫)। মাত্র ২ শতাংশ জমির উপর চুপড়ি ঘরে তার বসবাস। তিন বছর আগে রেজাউল করিম মুন্না খাতুন দম্পতির কোল জুড়ে জন্ম নেয় তিন জমজ সন্তান আমেনা, ফাতেমা, সুমাইয়া। জন্মের মাত্র ১৫ দিন মায়ের বুকের দুধ পেলেও হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায় মায়ের বুকের দুধ। দুধ না পাওয়ায় শিশু খাদ্য কিনে তাদেরকে মানুষ করতে খুব কষ্টে জীবন যাপন করছেন রেজাউল করিম ও তার স্ত্রী মুনাফ খাতুন। তিন শিশু সন্তানের দৈনন্দিন দুধের প্রয়োজন ৩ কৌটা- যার মূল্য ২১০০ টাকা অথচ এক কৌটা দুধ দিয়েই তারা ৪-৫ দিন এই তিনটি শিশুকে খাওয়ান। এতে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে শিশুরা ধুকে ধুকে বড় হচ্ছেন তারা। রেজাউল করিমের বাবা ছিলেন ঝালমুড়ি বিক্রেতা। তিনি এখন বৃদ্ধ ও কর্মহীন। এছাড়া ঘরে রয়েছে অসুস্থ মা। এই তিন সন্তানের জন্মের আগে রেজাউলের করিমের রয়েছে সাত বছর বয়সী আরেক মেয়ে খুরশি খাতুন।
বর্তমানে রেজাউল করিমকে ভ্যান চালিয়ে একা উপার্জনে চালাতে হচ্ছে সংসারের ৮ জন সদস্যকে। পরিবারের দৈনন্দিন খরচ বড় মেয়ের লেখাপড়া, অসুস্থ মা ও বাবার ওষুধ সবকিছুর খরচ চালাতে তাকে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হচ্ছে। ভ্যান চালিয়ে কোনোদিন ৫০০ টাকা, কোনোদিন ৪০০ কোনোদিন আয় করেন তিনি। দৈনন্দিন উপার্জিত আয় দিয়ে শিশু বাচ্চাদের মুখে খাবারের টাকাও জোগাড় করতে পারেন না।
সরেজমিনে ভ্যানচালক রেজাউল করিমের লালপুরের নবীনগর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্ত্রী মুনাফ খাতুন তার তিন জমজ সন্তানসহ চার সন্তানকে ভাতের মধ্যে পানি ঢেলে খেতে দিয়েছেন। খাবারের তালিকায় নেই কোনো সবজি বা মাংস- পোলাও। এভাবে জমজ শিশুগুলো ভুগছে পুষ্টির অভাবে, বড় হচ্ছে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে। একটি মাত্র ঝুপড়ি ঘর আর এতে চার সন্তানসহ স্বামী স্ত্রী ছয় জন রাতে ঘুমান একঘরে, আর বারান্দায় ঘুমান অসুস্থ বৃদ্ধ মা ও বাবা।
বিষয়টি আরটিভিতে তুলে ধরার জন্য এই প্রতিবেদককে ধন্যবাদ দিয়ে ভ্যানচালক রেজাউল করিম বলেন, আর টিভিতে নিউজ প্রচারের পর বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর নজরে আসলে তিনি আমার বাড়িতে এপিএসকে পাঠিয়ে খোঁজ খবর রাখেন এবং আমার স্ত্রীর হাতে ১০ হাজার টাকা তুলে দেন। পরবর্তীতে আমার পরিবারের জন্য কিছু করবেন বলে আশ্বাস দেন।
আরটিভি/এমএইচজে