images

দেশজুড়ে

টুং-টাং শব্দে মুখর কামারপাড়া, দম ফেলার ফুসরত নেই কারিগরদের

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ , ০৪:৫৩ পিএম

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন ১১ টি ইউনিয়নের কামারশিল্পীরা। তবে গভীর রাত পর্যন্ত টুং-টাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে স্থানীয় দক্ষিণ বন্দরের কামারপাড়া। হাতুড়ি পেটানোর চেনা শব্দই জানান দিচ্ছে দরজায় কড়া নাড়ছে কোরবানি ঈদ।

কোরবানির পশু জবাই এবং মাংস কাটার জন্য দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি ও রামদা তৈরিতে এখন ব্যস্ত কারিগররা। কয়লার উত্তপ্ত আগুনে লোহা পুড়িয়ে লাল করে, তারপর হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এসব ধারালো সরঞ্জাম। শুধু নতুন সরঞ্জাম তৈরিই নয়, পুরনোগুলোতে শান দিতেও কামার দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় ক্রেতারা।

সরেজমিনে পৌর শহরের দক্ষিণ বন্দর কামারপট্টি ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত একটানা কাজ করে যাচ্ছেন কারিগররা। জ্বলন্ত কয়লার লাল আগুনে উত্তপ্ত লোহায় হাতুড়ির আঘাতে চারদিকে স্ফুলিঙ্গ ছিটকে পড়ছে।

পৌরসভার কামারপট্টির এক প্রবীণ কামারশিল্পী সুষিল কর্মকার বলেন, সারা বছর আমাদের ব্যবসা মোটামুটি চললেও এই কোরবানি ঈদের অপেক্ষায় থাকি আমরা। এই এক মাসে যে বিক্রি আর অর্ডার হয়, তা দিয়ে বছরের বাকি সময়ের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। এখন দম ফেলারও ফুসরত নেই।

বাজারে আকার ও লোহা ভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে এসব সরঞ্জাম। নতুন একটি সাধারণ ছুরি ১০০ থেকে ৩০০ টাকা, মাংস কাটার চাপাতি ৫০০ থেকে ১,২০০ টাকা, বঁটি ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং বড় রামদা ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া পুরনো দা-ছুরি শান দেওয়ার জন্য নেওয়া হচ্ছে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা।

পৌর শহরের বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা মো. জাহিদ উদ্দিন জানান, ঈদের মাত্র দু'দিন বাকী বেশি দিন বাকি নেই। শেষ মূহুর্তে ভিড় আরও বাড়বে, তাই আগেভাগেই পছন্দের চাপাতি আর ছুরি কিনতে এসেছি। তবে গত বছরের চেয়ে এবার দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে।

ব্যস্ততা বাড়লেও কারিগরদের মুখে কিছুটা চিন্তার ভাজ। কামারদের দাবি, বাজারে কয়লা এবং কাঁচামাল বা লোহার দাম আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। ফলে হাড়ভাঙা খাটুনি করেও আশানুরূপ লাভ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। আধুনিক যান্ত্রিক প্রযুক্তির কারণে এই প্রাচীন শিল্পটি দিন দিন সংকটে পড়লেও, কোরবানি এলে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় এই পেশা।

কোরবানির পশুর হাটের পাশাপাশি মঠবাড়িয়ার দা-ছুরির এই বাজারও ঈদের আগের রাত পর্যন্ত জমজমাট থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

আরটিভি/এসএস