সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ , ০৫:৫৫ পিএম
নাটোরের সিংড়া থানার এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে অন্যের চুরি করা ফ্রিজ কিনে নিয়ে বাসায় রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম নজরুল ইসলাম। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় স্থানীয় মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে সিংড়া পৌরসভার চাঁদপুর মহল্লার জামাল উদ্দিনের মাদকাসক্ত ছেলে মাসুম আলী তার বড় ভাই মুনছের আলীর বাড়ি থেকে একটি ফ্রিজসহ কিছু মালামাল চুরি করেন। গভীর রাতে চোরাই ফ্রিজটি ভ্যানগাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় সিংড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টহলরত এসআই নজরুল ইসলাম তা আটকে দেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চোর মাসুম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাজু ও আবু হানিফ জানান, এসআই নজরুল ইসলাম উদ্ধার করা ফ্রিজটি নিয়ম অনুযায়ী থানায় জমা না দিয়ে, উল্টো পথচারীদের সহায়তায় নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। পরবর্তীতে অভিযুক্ত মাসুম ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় হাজির হয়ে চুরির কথা স্বীকার করে। তখন এসআই নজরুল ইসলাম ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে মাসুমের স্বাক্ষর রেখে মাত্র ১১ হাজার ৫০০ টাকায় ফ্রিজটি নিজের করে নেন।
এ দিকে চুরির ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ফ্রিজটি উদ্ধারে মরিয়া হয়ে ওঠে ভুক্তভোগী পরিবার। মুনছের আলীর মা মর্জিনা বেগম জানান, তারা লোকমুখে জানতে পারেন তাদের ফ্রিজটি এসআই নজরুল ইসলামের কাছে রয়েছে। পরবর্তীতে সিংড়া সার্কেল অফিসে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে টাকা ফেরত দিয়ে গত শনিবার (২৩ মে) তারা ফ্রিজটি বুঝে পান।
এ প্রসঙ্গে সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, এসআই নজরুল ইসলাম একটি ফ্রিজ ক্রয় করেছিলেন। পরবর্তীতে জানা যায় ফ্রিজটি বিক্রেতার ভাইয়ের। তাই সেটি আবার ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের পদক্ষেপ ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে সিংড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে। তবে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে পার পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না অভিযুক্ত এসআই।
নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি) জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পরপরই সিংড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত এসআই নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমের সামনে আসতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন এবং নিজেকে আড়াল করে রাখছেন বলে জানা গেছে।
আরটিভি/এসএস