images

দেশজুড়ে

ঘুষের বিনিময়ে মাদরাসায় চাকরি, অতঃপর...

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ , ১০:০২ পিএম

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলাধীন গোবিন্দপুর গুমড়া দাখিল মাদরাসায় ৪ কর্মচারী নিয়োগে মোট অঙ্কের ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় কমিটি বাতিল করা হয়েছে। 

সোমবার (২৫ মমে) মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের রেজিষ্টার প্রফেসর এস এম তৌহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে কমিটি বাতিল  করা হয়। 

এর আগে, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির অবৈধ হস্তক্ষেপ, আইন ও বিধি বিধান লঙ্ঘন করে বেআইনী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অপতৎপরতা এবং নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ এনে মাদরাসার সুপার মোজাহার আলী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডে লিখিত অভিযোগ করেন। 

এর প্রেক্ষিতে বোর্ড হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রম চাকমাকে তদন্তের ভার দেওয়া হয়। তদন্তে ৪ কর্মচারী নিয়োগে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এ ছাড়াও মাদরাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, সুপারিন্টেন্ডসহ নিয়োগ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী নিয়োগ প্রত্যাশীরা দিনাজপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন। 

জানা গেছে, ২০২৫ সালে ২০ ডিসেম্বর আয়া, নৈশ প্রহরী, নিরাপত্ত কর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে একজন করে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতি গোপনে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ওই চার পদে নিয়োগ দেন। এতে নিয়োগ বঞ্চিতরা বাদী হয়ে ওই মাদরাসার সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সুপারেন্টেন্ডে, উপজেলা মাধ্যমিক ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ নিয়োগ সংশ্লিষ্ট ১২ জনকে আসামী করে ২০২৬ সালের জানুয়ারী মাসে দিনাজপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। 

এ ছাড়াও নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে মাদরাসা সুপারিডেন্ট মোজাহার আলী সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে বোর্ড হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তদন্তের ভার দেন। 

গোবিন্দপুর গুমড়া দাখিল মাদরাসা সুপার মোজাহার আলী জানান, সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক প্রতি পদে ১৫ লাখ টাকা করে ৪ পদে মোট ৬০ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্য করেছেন। এতে প্রতিবাদ করলে অবৈধ ভাবে আমাকে একমাস বাহিষ্কার করা হয়।  

নৈশ প্রহরী পদে চাকরিপ্রত্যাশী আসাদুজ্জামান জানান, আবেদনের পর সভাপতি লোক মারফত তাকে দেখা করতে বলেন। পরবর্তীতে দেখা করলে তিনি ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এতে স্বচ্ছভাবে নিয়োগ দেওয়ার অনুরোধ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে দূর্ব্যবহার করেন এবং বলেন টাকা দাও, চাকুরি নেও। 

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে অভিযুক্ত সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের সাথে ফোনে কথা বললে তিনি জানান, কর্তৃপক্ষ তার কাছে নোটিশের জবাব দিতে বলেন। কিন্তু তিনি জেল হাজতে থাকার কারনে তিনি নোটিশের জবাব দিতে পারেননি।

আরটিভি/এসএস