মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬ , ০৬:৩৪ পিএম
গোপালগঞ্জে এক মাংস বিক্রেতাকে গরুর মাংস বিক্রি না করে শুধু শুকরের মাংস বিক্রির নির্দেশের অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় আলমগীর মোল্লা নামের ওই মাংস বিক্রেতা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন।
অভিযোগ পত্রে বলা হয়, মুকসুদপুর উপজেলার দক্ষিণ জলিরপাড় বাজারের দক্ষিণ জলিরপাড় বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের সীমানার পাশে দীর্ঘ দুই বছর ধরে গরু জবাই ও মাংস বিক্রি করে আসছিলেন আলমগীর মোল্লা। গত ১৫ মে সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আওরঙ্গ জেব তাকে ওই স্থানে গরুর মাংস বিক্রি না করতে বলেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে সেখানে শুধু শুকরের মাংস বিক্রি হবে বলেও জানানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
এরই প্রেক্ষিতে, প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (২৬ মে) বিষয়টি নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাজার এলাকায় পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ-এর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিষয়টি তোলা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্থানীয় বাজার কমিটির সদস্যরা, মসজিদের ইমাম, অভিযোগকারী মাংস বিক্রেতা আলমগীর মোল্লাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, একটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ সুপার স্যারের উপস্থিতিতে আজ বিষয়টির সমাধান হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কে গরু জবাই করবে আর কে শুকর জবাই করবে -এটা দেখার দায়িত্ব পুলিশের নয়। আমাদের কোনো কর্মকর্তা এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেননি। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় আমরা সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে বসেছিলাম। সেখানে অভিযোগকারী নিজেই বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। এখানে পুলিশের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ উজ জামান বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাই নিজ নিজ কাজ করবেন। যিনি গরুর মাংস বিক্রি করতেন তিনি বিক্রি করবেন, যিনি শুকরের মাংস বিক্রি করতেন তিনিও বিক্রি করবেন। এতে কোনো সমস্যা নেই। সবাইকে সহনশীল থেকে অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না করে চলতে হবে।
অভিযোগকারী মাংস বিক্রেতা আলমগীর মোল্লা বলেন, বুধবার (২৬ মে) থেকে আমি আবার গরুর মাংস বিক্রি শুরু করবো। প্রশাসন আমাকে আশ্বস্ত করেছে, কোনো বাধা এলে তারা সহযোগিতা করবে।
আরটিভি/এসএস