বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ , ১০:০৬ এএম
কোরবানির পশুর হাটে গরু বাঁধাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিবাদে মারধরের শিকার ভাগনেকে বাঁচাতে গিয়ে ধামরাইয়ের এক ঔষধ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ মে) দিবাগত রাতে সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের পাড়াগ্রাম কোরবানির পশুর হাটে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শহীদুল্লাহ কায়সার (৫০) ধামরাইয়ের বাইশাকান্দা ইউনিয়নের মঙ্গলবাড়ি এলাকার মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে ও ঔষধ ব্যবসায়ী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা জানান, শহীদুল্লাহ, তার ভাই ও ভাগনে মিলে ১৮টি গরু ও দুটি ছাগল নিয়ে হাটে যান। এরমধ্যে ১৪টি গরু বিক্রি হয়ে যায়। অবশিষ্ট চারটি গরু বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেখানেই তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় অন্য এক ব্যক্তি গরু বাঁধতে গেলে এ নিয়ে প্রতিবাদ করেন শহীদুল্লাহর ভাগনে ফিরোজ কবির। এ সময় সেই ব্যক্তি ও হাট কর্তৃপক্ষের লোকজন এসে তার ভাগনে ও তার ওপর হামলা করে।
ভাগনেকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরের শিকার হন শহীদুল্লাহ কায়সার ও তার ভাই মাসুদ রানা। তাদেরকে বেধড়ক মারধর করা হয় ও তাদের কাছে থাকা প্রায় ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে গুরুতর আহত হলে শহীদুল্লাহ কায়সারকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাগনে ফিরোজ কবির বলেন, আমার মামার সঙ্গে কোরবানির পশুর হাটে গরু বিক্রি করতে যাই। মামার ১৮টি গরু ছিল। এরমধ্যে ১৪টি বিক্রি হয়েছে। বাকি চারটা নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। ওই সময় অন্য একজন ব্যক্তি এসে একই জায়গায় গরু বাঁধতে গেলে বিষয়টি নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। আমার মামা শহীদুল্লাহ কায়সার প্রতিবাদ করলে হাট কর্তৃপক্ষের কিছু লোক এবং আশপাশে থাকা আরও কয়েকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় আমি আগে আক্রান্ত হই। একপর্যায়ে আমাকে বাঁচাতে গেলে আমার মেজো মামার ওপরও হামলা করা হয়। এ সময় আমার ছোট মামার কাছে গরু বিক্রির ৫ লাখ টাকা এবং মেজো মামার কাছে দুটি ছাগল বিক্রির ৪০ হাজার টাকা ছিল। হামলাকারীরা সেই টাকাগুলো নিয়ে যায়। হামলার পর গুরুতর অবস্থায় আমরা মামাকে দ্রুত ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, মামা আর বেঁচে নেই।
নিহতের ভাই মাসুদ রানা বলেন, আমি একটু ওষুধের দোকানে গিয়েছিলাম। ফিরে দেখি হাটে ঝগড়া চলছে। পরে আমি বুঝতে পারি, আমার ভাগনের সঙ্গে কয়েকজনের মারামারি হচ্ছে। ভাগনেকে বাঁচানোর জন্য আমি সবাইকে থামানোর চেষ্টা করি। তাদের বারবার বলি, ‘ভাই থামেন, মারধর করবেন না, আমি দেখতেছি।’ এ সময় হাটের একটি স্থানে কয়েক মিনিট ধরে আমার ভাগনেকে মারধর করা হয়। পরে আরও ১৫ থেকে ২০ জন সেখানে জড়ো হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা পাশের একটি হোটেলের ভেতরে ঢুকে পড়ে। আমি তাদের পেছনে গিয়ে আবারও পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি। কিন্তু কেউ আমার কথা শোনেনি। পরে আবারও আমার ভাগনেকে মারধর করে। একপর্যায়ে আমি নিজের লুঙ্গিতে কোমরের কাছে হাত দিয়ে দেখি, আমার কাছে থাকা ৫ লাখ টাকা নেই। মারধরের ঘটনার মধ্যেই ওই টাকা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপরই আমার ভাই অচেতন হয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তিনি মারা গেছেন।
তিনি আরও বলেন, গরু বাঁধাকে কেন্দ্র করেই প্রথমে বিরোধের সূত্রপাত হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন হাট কমিটির লোক ও ভলান্টিয়ার ছিলেন। আমি সবার নাম জানি না, তবে মুখ দেখলে চিনতে পারব।
ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী রেজাউল বলেন, কন্ট্রোল রুম থেকে খবর পাই, পাড়াগ্রাম গরুরহাটে মারামারির ঘটনায় আহত এক ব্যক্তি হাসপাতালে মারা গেছেন। ঘটনার আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল আশুলিয়া থানার আওতাধীন হওয়ায় বিষয়টি আশুলিয়া থানাকে জানানো হবে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা উপরস্থ কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রহণ করা হবে।
আরটিভি/আইএম