বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ , ১১:৪৮ এএম
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক গ্রামে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে।
বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঈদের আনন্দ ও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯২৮ সালে সাদ্রা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) সৌদি আরবসহ অন্য আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপনের প্রথা চালু করেন। সেই থেকে বিগত প্রায় ১০০ বছর ধরে তার অনুসারীরা আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে একই দিনে ঈদসহ সব ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ সকাল ৮টায় হাজীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাদ্রা দরবার শরীফের মাদরাসা মাঠে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দরবারের পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী। পরে সকাল সাড়ে ৮টায় একই স্থানে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দরবারের পীর জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি।
এর আগে ঈদের নামাজে অংশ নিতে ভোর থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা জামাতস্থলে জড়ো হতে থাকেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
পার্শ্ববর্তী ফরিদগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামেও আজ ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। এর মধ্যে উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের টোরামুন্সীরহাট বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৮টায় প্রধান ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহমান।
এ ছাড়া মুন্সীরহাট বাজারের পূর্ব পাশে টোরা ঈদগাহ্ ও হাফেজিয়া মাদরাসা ঈদগাহ মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় আরেকটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মো. বরকত উল্যাহ।
এদিকে মতলব উত্তর উপজেলার দেওয়ানকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৯টায়। এতে ইমামতি করেন মসজিদের খতিব মাওলানা আরিফুল ইসলাম। এ ছাড়া এ উপজেলায় ছয়টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
সাদ্রা দরবার শরীফের ঈদ জামাত কমিটির সদস্য আহমেদ রেজা চৌধুরী বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করেন। মুসল্লিদের উপস্থিতিতে ঈদের আনন্দ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
হাজীগঞ্জ সাদ্রা দরবার শরীফের পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী জানান, পৃথিবীতে চাঁদ একটাই। সুতরাং পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলেই আমরা তারাবি, রোজা ও ঈদ পালন করি।
যেসব গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে: হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, প্রতাপুর, বাসারা, ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুর, মতলব উপজেলার পাঁচানি, বাহেরচর পাঁচানি, সাড়ে পাঁচানি, দেওয়ান কান্দি, উত্তর নেদামদী, আংশিক লুতুরদি, আমিয়াপুর, এনায়েতনগর, মাথাভাঙা গ্রাম এবং কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলাসহ অর্ধশত গ্রাম।
আরটিভি/আইএম