images

দেশজুড়ে

ঈদের আগের দিনে জমজমাট পশুর হাট

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ , ০৮:১৯ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন পশুর হাট। জেলার হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে দীর্ঘ ১৭ বছর পর পুনরায় বসা ঘিওরের নদীতীরের পশুর হাট ঘিরে ছিল বাড়তি উৎসাহ ও প্রাণচাঞ্চল্য।

বুধবার (২৭ মে) বিকেলে ঘিওর উপজেলার নদীর তীরবর্তী পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ পছন্দের গরু ও ছাগল কিনতে ভিড় করছেন। হাটজুড়ে ছিল ক্রেতাদের দর-কষাকষি আর বিক্রেতাদের ব্যস্ততা।

বিক্রেতাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর আমদানি ও বেচাকেনা বেড়েছে। তবে পশুর খাদ্য ও লালন-পালনের খরচ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না তারা। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, আগের বছরের তুলনায় গরুর দাম কিছুটা বেশি।

গরু বিক্রেতা আলীমুল বলেন, গরুর খাবারের খরচ অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এক লাখ বিশ হাজার টাকার গরুর দাম বলছে আশি হাজার। এভাবে হলে আমাদের টিকে থাকা কঠিন।

ছাগল বিক্রেতা ফারুক বলেন, দুটি ছাগল নিয়ে হাটে এসেছি। কিন্তু সবাই গরু কিনতেই বেশি আগ্রহী। ছাগলের দামও কম বলছে, তাই বিক্রি করতে পারছি না।

হাটে আসা কয়েকজন বিক্রেতা জানান, ক্রেতা থাকলেও অনেকেই কম দাম বলছেন। ফলে খরচ তুলেই গরু বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে ভালো দাম পেলে রাত পর্যন্ত হাটে থেকে বিক্রি করবেন বলেও জানান তারা।

এদিকে ক্রেতাদের অনেকেই বলছেন, দেশীয় গরুর চাহিদা বাড়ায় এবার বাজারে দামের চাপ রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গরু কম আসায় স্থানীয় গরুর ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।

ঘিওর পশুর হাটের ইজারাদার মিজানুর রহমান খান কুদরত বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর নদীর তীরে আবারও এই পশুর হাট বসেছে। ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি অনেক ভালো। প্রতি লাখ টাকায় মাত্র এক হাজার টাকা হাসিল নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, রাত পর্যন্ত জমজমাট বেচাকেনা হবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার মানিকগঞ্জে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৮টি পশুর হাট বসেছে। হাটগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় কাজ করছে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম।

আরটিভি/টিআর