শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ , ১১:১৪ এএম
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় কোরবানির গরুর চামড়া ‘পানির দরে’ বিক্রি হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঠবাড়িয়ায় এবার প্রায় ৫ হাজার গরু ও ৭’শ ছাগল কোরবানি করা হয়েছে। তবে চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পেয়ে কোরবানি দাতা ও চামড়ার অংশীদাররা হতাশায় ভুগছেন।
চলতি বছর কোরবানির মৌসুমে সরকারিভাবে ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৫৭ থেকে ৬২ টাকা। অন্যদিকে, খাসির চামড়া সারাদেশে ২৫ থেকে ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও তা কিনছেন না ক্রেতারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় গরু কিনে আমি চামড়া বিক্রি করেছি মাত্র ২০০ টাকায়। আর এলাকায় মাঝারি ও ছোট গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। আবার কেউ মাদরাসায় দিয়ে দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ছাগলের চামড়া কেনার মতো আগ্রহ নেই বললেই চলে। আমার কোরবানির ছাগলের চামড়া এখনও পড়ে আছে। এতিমখানা-মাদরাসাও নিতে চায় না।
উপজেলার চামড়া ব্যবসায়ী নান্টু রবি দাস জানান, গত কয়েক বছর চামড়া ব্যবসায়ী যারা ছিল, সবাই-ই ক্ষতিগ্রস্ত। এ বছর ১০০-৩০০ টাকায় চামড়া কিনেছি। ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরে লাভও হতে পারে, লসও হতে পারে।
আরেক মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী জয় হালদার বলেন, বেশি দাম দিয়ে চারটি গরুর চামড়া কিনে শহরে বিক্রি করতে নিয়ে গেলে ৩০০-৪০০ টাকা দাম বলে।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেশের ভালো চাই। কিন্তু ন্যায্য মূল্য পাইনা।
উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন জুনায়েদ রহমান জানান, মঠবাড়িয়া উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার গরু ও ৭’শ ছাগল কোরবানি করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে বিনামূল্যে লবণ বিতরণ করা হয়েছে এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া ক্রয়- বিক্রয় করার নির্দেশনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সঠিকভাবে চামড়া সংরক্ষণ করতে পারলে পরবর্তীতে ভালো মূল্যে বিক্রি করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।
আরটিভি/আইএম