শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ , ০৬:২৭ পিএম
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এশার নামাজের সময় উচ্চ স্বরে মাইকিংয়ের প্রতিবাদ করায় এক মসজিদের ইমামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ইমাম মাওলানা ইউসুফ হোসেনের বাঁ চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) সকালে এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গফরগাঁও পৌর শহরের জামতলা মোড়ে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় আলেম-ওলামারা।
এর আগে, শুক্রবার (২৯ মে) রাতে উপজেলার যশরা ইউনিয়নের বখুরা সরদারবাড়ি এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বখুরা সরদারবাড়ি এলাকায় মসজিদের ঠিক পাশেই স্থানীয় কিছু যুবক মেলার আয়োজন করেন। শুক্রবার রাতে এশার নামাজের ওয়াক্ত চলাকালীন মেলায় উচ্চ স্বরে মাইক বাজানো হচ্ছিল। এতে মসজিদের ভেতরে নামাজের ব্যাঘাত ঘটায় ইমাম মাওলানা ইউসুফ হোসেন মেলার আয়োজকদের সাময়িকভাবে মাইকটি বন্ধ করার অনুরোধ করেন। কিন্তু এই অনুরোধে ক্ষিপ্ত হয়ে মেলার আয়োজকেরা ইমামের ওপর চড়াও হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ইমামের ওপর বেধড়ক হামলা চালানো হয়। এতে তার বাঁ চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এদিকে, ইমামের ওপর এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ সকালে গফরগাঁও পৌর শহরের জামতলা মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন আলেম-ওলামারা।
সমাবেশে বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নামাজের সময় মাইক বন্ধের অনুরোধ করা কোনো অপরাধ নয়। একজন ইমামের ওপর এমন বর্বর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দোষী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মানবাধিকার ও সাংবাদিক সংস্থার চেয়ারম্যান একরাম উল্লাহ, খায়রুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি জহিরুল ইসলাম উসমানী, ময়মনসিংহ জেলা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য ফজলুল হক, মাদকবিরোধী ইসলামী সাংস্কৃতিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা ইউসুফ বিন মনির এবং ইত্তেফাকুল উলামা গফরগাঁও শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হুমায়ুন কবিরসহ স্থানীয় ওলামা মাশায়েখ ও সাধারণ মুসল্লিরা।
এই ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আতিকুর রহমান বলেন, এই হামলার ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জড়িতরা পলাতক রয়েছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছে।
আরটিভি/এসএস