images

দেশজুড়ে

ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল, দাম আকাশছোঁয়া

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬ , ০২:৫৪ পিএম

ভরা মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা নেই বরিশালে। সংকটের কারণে ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া। এতে জাতীয় মাছের স্বাদ ভুলতে বসেছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে বরিশাল নগরীর পোর্টরোড পাইকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, মোকামে প্রায় ৬০ মণ ইলিশ এসেছে। অথচ এ সময়ে হাজার মণ ইলিশ পাওয়ার কথা। ফলে বাজারে ইলিশের দাম বেড়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজি সাইজের প্রতিকেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায়। এছাড়া ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের (এলসি) ইলিশ প্রতি কেজি দুই হাজার ৫০ থেকে দুই হাজার ৪০০, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ এক হাজার ৮০০ এবং ৪০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলেন, আড়তে এমন সময় ইলিশে ভরপুর থাকার কথা। অথচ ভরা মৌসুমেও নদ-নদীতে ইলিশের দেখা নেই । ফলে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি বলে জানান বিক্রেতারা।

মেসার্স দুলাল ফিশের ম্যানেজার মো. রবিন বলেন, দুয়েক বছর আগেও ভরা মৌসুমে পোর্ট রোডের আড়তে দিনশেষে দুই হাজার মণ ইলিশ বেচাকেনা হতো। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য পুরোপুরি উল্টো। কয়েকদিন ধরে ৬০ মণের উপরে মাছ আসছে না। ফলে চাহিদা থাকলেও আশানুরূপ ইলিশ না থাকায় দাম বাড়ছে।

পোর্টরোড পাইকারি বাজারে মাছ কিনতে আসা শাহিন বলেন, আগে যে ইলিশের কেজি ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকা ছিল তা এখন ২২০০-২৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। মাছের সরবরাহ কমের অজুহাতে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হয়েছে। নিজেদের নদ-নদী বা সাগরের মাছ। এত বেশি দামের কোনো কারণ দেখছি না।

ক্রেতা সোহেল রানা বলেন, এলাকার বাজার থেকে মাছ না কিনে পোর্টরোড পাইকারি বাজারে এসেছিলাম একটু কম দামে কেনার আশায়। কিন্তু এখানে খুচরা বাজারের মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এরপরও ছোট ছোট ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের চারটা ইলিশ কিনেছি তিন হাজার টাকায়।

নদীতে ইলিশ ধরতে আসা জেলে আসলাম বলেন, ইলিশও নেই, জাটকাও নেই। আপাতত ধার-দেনায় চলছি। তবে বৃষ্টি হলে মাছ ধরা পড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

কীর্তনখোলা নদীর জেলে সগির বলেন, নিষেধাজ্ঞা মেনেই নদীতে নেমেছি। অথচ নদীতে ইলিশের দেখা নেই। এমন চলতে থাকলে জাল বেঁচে দেনা পরিশোধ করতে হবে।

বরিশাল মৎস্য কর্মকর্তা ড. হাদিউজ্জামান বলেন, জুন থেকে ইলিশের মৌসুম শুরু হলেও ভরা মৌসুম জুলাই থেকে শুরু হয়। বৃষ্টি হলেই সাগর থেকে নদীতে ইলিশ আসবে। কারণ এ বছর মার্চ-এপ্রিল এ দুই মাস ষষ্ঠ অভয়াশ্রমে কড়া নজর থাকায় জাটকা নিধন কমেছে। জাটকা রক্ষায় নদীতে ৩০ জুন পর্যন্ত এবং সাগরে ১১ জুন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে। তবে ইলিশ ধরায় বাধা নেই।

এদিকে ইলিশের পরিস্থিতি নিয়ে গবেষকেরা বলছেন, চলতি বছর অভয়াশ্রমের জাটকার প্রায় ৯০ শতাংশ সাগরে পৌঁছেছে। এর সুফল পাওয়া যেতে পারে মৌসুমের শেষ দিকে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ। যদিও ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলছে। তবে সময়সীমা আরেকটু বাড়লে জাটকা বড় হবে এবং পুরোপুরি সুফল পাওয়া যাবে।

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেছেন, এবার এপ্রিলের শেষ নাগাদ ঝাঁকে ঝাঁকে চাপিলা আকৃতির জাটকা (ছোট ইলিশ) সাগরে চলে গেছে। গত বছরের জাটকার ঝাঁক সাগরে গিয়েছিল মে মাসের প্রথম সপ্তাহে। এবার মৎস্য অধিদপ্তরের নজরদারিতে পাই জাল দিয়ে চাপিলা সাইজের জাটকা ধরতে পারেনি বেশি। নদীতে এগুলো ৫-৬ ইঞ্চি হয়ে সাগরে পৌঁছেছে। গত বছরের তুলনায় ৯০ শতাংশ জাটকা সাগরে চলে গেছে বলে তাদের ধারণা। এখন দরকার সাগরে এটিকে বড় হতে দেওয়া।

আরটিভি/টিআর