বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬ , ০৯:২৭ এএম
দেশের জাহাজ ভাঙা ও পুনর্ব্যবহার শিল্প বা শিপ ব্রেকিং খাতের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে বড় ধরণের নীতিগত পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা।
সোমবার (১ জুন) বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) নেতৃবৃন্দ পরিবেশ ও শিল্প মন্ত্রীর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এ বৈঠকেই উঠে এসেছে জাহাজ ভাঙা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে অত্যন্ত যৌক্তিক দুইটি দাবি।
বৈঠকে বিএসবিআরএ-এর পক্ষ থেকে প্রথম যে দাবিটি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে তা হলো- ইয়ার্ডগুলোর লিজের মেয়াদ বৃদ্ধি।
বর্তমানে এই ইয়ার্ডগুলোকে মাত্র ১ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়। উদ্যোক্তাদের মতে, মাত্র এক বছরের লিজ নিয়ে কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বা বড় বিনিয়োগ করা সম্ভব নয়। প্রতি বছর লিজ নবায়নের ঝুঁকি কাটাতে এবং এই শিল্পে স্থায়িত্ব আনতে তারা ১ বছরের পরিবর্তে একবারে ১০ বছরের জন্য লিজ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এতে করে ব্যবসায়ীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের গ্রিন ইয়ার্ড গড়ে তুলতে বিনিয়োগ করতে পারবেন।
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই শিল্পের জন্য দ্বিতীয় বড় দাবিটি ছিল ‘ক্যাটাগরি বা সিগন্যাল’ পরিবর্তন।
দীর্ঘদিন ধরে জাহাজ ভাঙা শিল্পকে পরিবেশগত দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অর্থাৎ 'লাল সিগন্যাল' বা রেড ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। তবে বিএসবিআরএ নেতৃবৃন্দ মন্ত্রীকে জানান, আধুনিক বাংলাদেশ এখন পরিবেশসম্মত হংকং কনভেনশন মেনে 'গ্রিন শিপ রিসাইক্লিং'-এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
ইতোমধ্যেই দেশের বেশ কয়েকটি ইয়ার্ড সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তরিত হয়েছে। তাই এই খাতের আধুনিকায়নের স্বীকৃতিস্বরূপ এটিকে লাল সিগন্যাল থেকে মুক্ত করে হলুদ কিংবা সবুজ সিগন্যালে স্থানান্তর করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। এর ফলে পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও গতিশীল হবে।
পরিবেশ ও শিল্প মন্ত্রী বিএসবিআরএ নেতৃবৃন্দের এই দাবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন। দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং স্টিল খাতের কাঁচামালের যোগানে এই শিল্পের অবদান বিবেচনা করে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
উদ্যোক্তারা আশা করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এই দুটি দাবি পূরণ হলে বাংলাদেশের শিপ রিসাইক্লিং শিল্প বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
আরটিভি/এমএ