বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ , ০৭:৩২ পিএম
শেরপুরের ঝিনাইগাতীর নকশী এলাকায় বালুদস্যুদের হামলায় বন কর্মকর্তাসহ দুইজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৩ জুন) রাতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা ও বালুসহ ট্রলি জব্দের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন রাংটিয়া রেঞ্জের গজনী বিট কর্মকর্তা সালেহীন নওয়াজ খান (২৮) এবং একই বিটের বনরক্ষী জিয়াউল হক (৩০)।
বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এসবি তানভীর আহমেদ ইমন জানান, বুধবার ভোরে রাংটিয়া রেঞ্জের গজনী বন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পরিবহনের সময় এক ট্রলি বালুসহ ট্রলিচালককে আটক করে ঝিনাইগাতী থানায় সোপর্দ করে বন বিভাগ। পরবর্তীতে এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে এর জের ধরে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে বালুদস্যুরা গজনী বিটের বিট কর্মকর্তা সালেহীন নওয়াজ খান ও বনরক্ষী জিয়াউল হক নিয়মিত টহলে বের হলে বনের নকশী এলাকায় ফরহাদ, রোমান ও জামান মোল্লাসহ ২০ থেকে ২৫ জন বালুদস্যু দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে।
এ সময় তাদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের এলাকাবাসী এসে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে ঘটনার খবর পেয়ে বালিজুরি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়াসহ অন্যান্য বিটের বন কর্মকর্তারা ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহতদের দেখতে যান। পরবর্তীতে আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে বন কর্মকর্তাদের ওপর বালুদস্যুদের হামলার খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জেলা সদর হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপস্থিত বন কর্মকর্তাদের আশ্বাস দেন।
বালিজুরি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া বলেন, বিট কর্মকর্তা সালেহীন নওয়াজের মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। আহতদের ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান ভূঞা জানান, ঝিনাইগাতীতে বন বিভাগের দুজন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন—বিষয়টি আমরা জেনেছি। তারা বর্তমানে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, এ ঘটনায় মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
আরটিভি/টিআর