images

দেশজুড়ে

আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশ: টিকার জন্য টাকা চাওয়া সেই নার্স বরখাস্ত

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ০৯:৫৫ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্কের টিকা নিতে যাওয়া রোগীর স্বজনের কাছে টাকা দাবি এবং টাকা না পেয়ে রোগীকে আটকে রাখার অভিযোগে আরটিভি নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছা. মুর্শিদা আক্তারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ (কৈফিয়ত তলব) জারি করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন।

শনিবার (৬ জুন) কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুন (শুক্রবার) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এক রোগী কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আন্তঃবিভাগে জলাতঙ্কের টিকা নিতে আসেন। এ সময় কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স মুর্শিদা আক্তার রোগীর স্বজনদের কাছে ২০০ টাকা দাবি করেন। রোগীর স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে পরে পরিশোধের কথা জানালে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান এবং রোগীকে টিকা না দিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় শনিবার আরটিভি অনলাইনে 'জলাতঙ্কের টিকার জন্য টাকা দাবি, না পেয়ে রোগীকে আটকে রাখলেন নার্স' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জনের নজরে আসে। পরে তার নির্দেশে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়, অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছা. মুর্শিদা আক্তারকে দায়িত্বভার থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।

একই সঙ্গে জারি করা পৃথক কৈফিয়ত তলব নোটিশে উল্লেখ করা হয়, তার এ ধরনের কার্যকলাপ সরকারি কর্মচারীর শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির পরিপন্থি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাকে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে কোনো ধরনের অসদাচরণ বা অনিয়মের সুযোগ নেই। অভিযোগটি আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত নার্সকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে। রোগীদের সেবার মান বজায় রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।


আরটিভি/এমএইচজে