সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ , ০৩:৫৩ পিএম
খুলনার পাইকগাছায় স্ত্রীর সামনে প্রসব করতে বসার প্রতিবাদ করায় হাসান সরদার (৩৫) নামে এক যুবককে দফায় দফায় নৃশংসভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) বিকেলে ঘটা এ ঘটনায় নিহতের চাচা সিরাজুল বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছেন। নিহত হাসান উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের কালিদাসপুর গ্রামের মালেক সরদারের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোববার বিকেল আনুমানিক ৫ টার দিকে হাসানের স্ত্রীর সামনে স্থানীয় খালেক গাজীর ছেলে কুদ্দুস গাজী প্রসব করতে বসে। এর প্রতিবাদ করেন হাসান সরদার। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কুদ্দুস গাজীর লোকজন প্রকাশ্য জনসম্মুখে হাসানকে মারপিট করেন, যাতে নেতৃত্ব দেন পাইকগাছা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক নামজুল হুদা মিন্টু। মারপিটের এক-দেড় ঘন্টা পরে তিনি একটু সুস্থ হলে আবারও নির্যাতন চালানো হয় তার ওপর। এক পর্যায়ে বেহুঁশ হয়ে পড়েন হাসান। সন্ধার পর পুনরায় জ্ঞান ফিরলে আবারও হাতুড়ি, ইট ও দরজার হাক দিয়ে আঘাত করে হাসানকে জখম করেন মিন্টু, কুদ্দুস ও তাদের লোকজন। এতে আবারও জ্ঞান হারান হাসান। এশার নামাজের পরে আবারও মারপিট করে তাকে নসিমনের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে হাসপাতালে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যান হামলাকারীরা।
হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ নয়ন কুমার সরকার জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই প্রাণ চলে গেছে হাসানের।
নিহতের ভাতিজি অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া মীম আক্তারসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহতের মাথার পিছনে মগজ বের করা ছিল, কপাল ও চোয়ালে পেরেক ফুটানোর ছিদ্র ছিলো, বাম চোখ রক্তাক্ত ছিলো, চার হাত-পা ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। কেউ ছবি উঠাতে গেলে বা ঠেকাতে গেলে তাদেরকেও মারপিট করা হয়েছে বলে জানান তারা।
নিহতের চাচা জানান, পাইকগাছা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক স্থানীয় নাজমুল হুদা মিন্টু, ইবাদাত গাজী, মনিরুল ইসলাম, কুদ্দুস গাজী, কবির সরদার, জহুরুল ইসলাম, আজহারুল গাজী, ইয়াসিন সরদার,পলাশ সরদারও শুকুর আলীরা তার ভাতিজা হাসানকে অমানবিক নির্যাতন করে হত্যা করেছে।
এদিকে সোমবার (৭ জুন) সকালে নিহত হাসান সরদারের পবিরারের লোকজন ও এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে কুদ্দুস গাজী ও তার ভাইয়ের বাড়িঘরে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বলে জানান অভিযুক্ত কুদ্দুস গাজী।
এ বিষয়ে আরেক অভিযুক্ত নাজমুল হুদা মিন্টু বলেন, নিহত হাসান সরদার একজন খারাপ প্রকৃতির লোক। সারক্ষণ গাঁজা বিক্রি ও সেবন করত সে। এলাকার যুব সমাজকে নেশায় আসক্ত করছিল সে। এজন্য জনগণ গণধোলাই দিয়ে তাকে হত্যা করেছে। আমি প্রথমে ঘটনাস্থলে ছিলামনা। আমি রাতে আসার পর পুলিশের সহয়তায় তাকে চিকিৎসার জন্য নসিমনে করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম।
পাইকগাছা থানা উপ-পুলিশ পরিদর্শক আঃ আজিজ বলেন, আমি লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছি। নিহতের মাথা ও মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের চাচা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এজহার দাখিল করেছেন।
আর পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, এজহার দাখিল হয়েছে শুনেছি। আমি খুলনাতে আছি। থানায় পৌঁছানোর পর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
আরটিভি/এসএইচএম