images

দেশজুড়ে

ডিআইজির কার্যালয়ে প্রবেশ করেছিল এক জোড়া কালনাগিনী, অতঃপর...

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ , ০৪:৩৭ পিএম

বরিশাল ডিআইজি কার্যালয় থেকে এক জোড়া মৃদু বিষধর কালনাগিনী সাপ উদ্ধার করেছে এনিমেল লাভার্স অব কলাপাড়া’র সদস্যরা।

রোববার (৭ জুন) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে বিভাগীয় সদর দপ্তরের ডিআইজির কক্ষের দেয়াল ভেঙে সাপ দুটি উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এনিমেল লাভার্সের পরিচালক আসাদুল্লাহ হাসান মুসা জানান, মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে আমাদের টিম নিয়ে ডিআইজির কার্যালয়ে যাই। সেখানে যাওয়ার পর জানতে পারেন, ওই কার্যালয়ের ভেতর দুটি সাপ প্রবেশ করেছে। 

আরও পড়ুন
Web-Image14

বরগুনায় ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার

তিনি আরও জানান, সাপ জোড়া দেয়ালে ফাঁকে ছিল। সেখান থেকে উদ্ধার করার জন্য ডিআইজির কক্ষের ছাদের দেয়াল ভাঙতে হয়েছে। কালনাগিনী সাপ আসলে বিষধর নয় এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকরও নয়।

তিনি জানান, পরে সন্ধ্যায় সাপ দুটি বন বিভাগের বরিশাল সদর রেঞ্জে হস্তান্তর করা হয়। তারা বনে অবমুক্ত করে।

ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কার্যালয়ের চারপাশে ঝোঁপঝাড় থাকায় সেখান থেকে সাপ দুটো অফিসে প্রবেশ করতে পারে বলে তার ধারণা। বিষয়টি পটুয়াখালী অ্যানিমেল লাভার্স সংগঠনকে অবহিত করা হয়। সংগঠনের সদস্যরা এসে দেয়াল ভেঙে সাপ দুটি উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।

সামাজিক বন বিভাগ বরিশাল সদর রোঞ্জের কর্মকর্তা আরিফ রহমান বলেন, আজ সকালে সাপ দুটি অবমুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে সাপ দুটি নিরাপদে উদ্ধার করায় ‘পটুয়াখালী এনিমেল লাভার’ সদস্যদের প্রশংসা করেন বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা। তিনি জানান, দেশে পাওয়া দৃষ্টিনন্দন সাপগুলোর মধ্যে কাল নাগিনী (Ornate Flying Snake) অন্যতম। অঞ্চলভেদে সাপটিকে উড়াল সাপ, সুন্দরী সাপ, কাল সাপ ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়। ইংরেজি নামের সঙ্গেও ‘ফ্লাইং স্নেক’ রয়েছে, তবে সাপটি মোটেও উড়তে পারে না। এটি গাছের উঁচু ডাল থেকে নিচু ডালে লাফিয়ে নামে। কাল নাগিনী দিবাচর ও শান্ত স্বভাবের সাপ। খুব বেশি বিরক্ত না হলে কামড়ায়ও না। এরা গিরগিটি, বাদুড়, ইঁদুর, ছোট পাখির ডিম ও কীটপতঙ্গ খায়। এরা সাধারণত পোকামাকড়, টিকটিকি, গিরগিটি, ব্যাঙ ও ছোট পাখি ইত্যাদি খায়। সাধারণত মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত এদের প্রজনন মৌসুম। সাপটি একবারে ৬-১২ টি ডিম পাড়ে যা থেকে দুইমাস পর বাচ্চা ফোটে।

তিনি বলেন, কাল নাগিনী নির্বিষ সাপ। অথচ নাটক-সিনেমায় কাল নাগিনীকে ভয়ংকর বিষধর সাপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে মানুষ সাপটি দেখামাত্রই মেরে ফেলে। এতে সুন্দর প্রাণীটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

আরটিভি/এমএম