সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ , ০৬:২০ পিএম
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নে একটি লংগান (আশফল) বাগানে রহস্যজনকভাবে ব্যাপক ফলঝরার ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিকের দাবি, শত্রুতাবশত কেউ ক্ষতিকর রাসায়নিক স্প্রে করে গাছের অপরিপক্ব ফল ঝরিয়ে দিয়েছে। এতে কৃষক ও বাগান ক্রয়কারী ব্যবসায়ীর প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতির দাবি করা হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের মৃত তিনকড়ি মণ্ডলের ছেলে অরুণ মণ্ডল প্রায় আট বছর আগে ১০০ শতাংশ জমিতে ৬৮টি লংগান গাছের একটি বাগান গড়ে তোলেন। কয়েক বছর ধরে তিনি বাণিজ্যিকভাবে বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করে আসছিলেন। চলতি মৌসুমেও গাছে প্রচুর ফল ধরেছিল। পরে তিনি পুরো বাগানের ফল উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকার ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের কাছে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করেন।
কিন্তু সম্প্রতি হঠাৎ করেই বাগানজুড়ে ব্যাপক হারে ফল ঝরতে শুরু করে। কয়েক দিনের ব্যবধানে অধিকাংশ গাছ প্রায় ফলশূন্য হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে কিছু গাছের পাতা হলদে হয়ে ঝরে যাওয়ার ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক অরুণ মণ্ডল জানান, কয়েকদিন আগে তার বাগান থেকে আম ও লিচু চুরির ঘটনা ঘটে। এরপর মঙ্গলবার (১ জুন) থেকে তিনি তার আশফল বাগানে অস্বাভাবিকভাবে ফল ঝরতে দেখেন। দুই-তিন দিনের মধ্যে প্রায় সব গাছের ফল ঝরে পড়ে।
কৃষক অরুণ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আট বছর ধরে অনেক কষ্ট করে বাগানটি গড়ে তুলেছি। এ বছর ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ এমন ক্ষতি মেনে নিতে পারছি না। আমার ধারণা, কেউ পরিকল্পিতভাবে গাছে ক্ষতিকর রাসায়নিক স্প্রে করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত ও শাস্তির আওতায় আনা উচিত।
ফল ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী এর আগে কম দামে বাগানটি কিনতে চেয়েছিলেন। আমি ন্যায্যমূল্যে বাগানটির ফল কিনেছি। এরপর থেকে বিভিন্নভাবে হয়রানির চেষ্টা চলছিল। আমার সন্দেহ, পরিকল্পিতভাবে গাছে আম পাকানোর কোনো রাসায়নিক স্প্রে করা হয়েছে, যার ফলে অপরিপক্ব ফল ঝরে পড়েছে। এতে আমি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।
অরুণ মণ্ডলের প্রতিবেশী কৃষক রবিন, সালাম ও কবিরুল বলেন, ‘কয়েকদিন আগেও গাছগুলো ফলে ভরে ছিল। এখন প্রায় সব ফল ঝরে পড়ে গাছ প্রায় ফলশূন্য হয়ে গেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় এ ধরনের অপরাধপ্রবণতা বাড়তে থাকবে এবং চাষিরা নিঃস্ব হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুশুলিয়া ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আতাহার হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে বাগান পরিদর্শন করে মনে হয়েছে, কোনো দুর্বৃত্ত চক্র গাছগুলোতে ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক প্রয়োগ করে থাকতে পারে। এর প্রভাবে অপরিপক্ব ফল ঝরে পড়েছে এবং কিছু গাছও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কী ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে, তা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। বিষয়টির তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চাষীসহ এলাকাবাসী।
আরটিভি/এমএম