images

দেশজুড়ে

রংপুরের দেড়শ বছরের কেডি খাল এখন ময়লার ভাগাড়

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ , ০৫:৪০ এএম

রংপুর নগরীর ঐতিহ্যবাহী কেডি খাল জলাবদ্ধতা নিরসনে খনন করা হলেও এখন তা পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনা ও দূষিত পানির ভাগাড়ে। সঠিক সময়ে সংস্কার না করায় খালজুড়ে জমে থাকা বর্জ্যের কারণে মশার উপদ্রব বাড়ার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে চরম জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোথাও কচুরিপানায় ঢেকে গেছে পানিপ্রবাহ, কোথাও আবার জমে আছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। খালের দুই পাড় দখল ও ভরাটের কারণে অনেক স্থানে সংকুচিত হয়ে পড়েছে এর স্বাভাবিক প্রবাহ। ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি। 
 
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারের নামে মাঝেমধ্যে উদ্যোগ নেয়া হলেও মিলছে না কোনো স্থায়ী সমাধান।
 

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

হাসপাতালের দালাল ধরে ড্রেন পরিষ্কার করাল ছাত্রদল


জানা গেছে, জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে রংপুর নগরীকে রক্ষা করতে প্রায় দেড়শ বছর আগে তৎকালীন পৌর প্রশাসক কৃষ্ণধন ঘোষ (কেডি ঘোষ) এই খাল খনন করেছিলেন। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি চিকলি বিল থেকে উৎপন্ন হয়ে নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শ্যামাসুন্দরী খালের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। পরে এটি খোকসা ঘাঘট নদীতে গিয়ে মিশেছে। নগরীর পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও সময়ের পরিক্রমায় এখন সেই খাল যেন দুর্দশার প্রতীক।
 
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিনা আক্তার বলেন, এই খালে আশপাশের বাড়িগুলোর পায়খানার লাইনের ময়লা এই খালে পড়ছে। মশা-মাছির যন্ত্রণায় দিনের বেলাও বাচ্চাদের মশারির ভেতর রাখতে হচ্ছে। এত পরিমাণে দুর্গন্ধ ছড়ায় যে, আমাদের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
 
আরেক বাসিন্দা আনিস মোল্লা বলেন, দুর্গন্ধের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছি। শহরের বড় একটি অংশের জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করে কেডি খাল। শ্যামাসুন্দরী খাল নিয়ে অনেক মিটিং, আন্দোলন হলেও এটি নিয়ে কেউ কোনো কথা বলছে না। মেয়র আসে-যায়, কিন্তু কোনো কাজ হয় না।
 
রংপুর মহানগর সুজনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জোবাইদুল ইসলাম বলেন, আমাদের শহরে দুটি ঐতিহ্যবাহী খাল আছে। সেই খালগুলো সংস্কারের অভাবে আশীর্বাদের জায়গায় অভিশাপে পরিণত হয়েছে। নতুন সরকার খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
 
তিনি আরও বলেন, শ্যামাসুন্দরী ও কেডি খাল খননসহ সংস্কারের মাধ্যমে প্রাণ ফিরে পাবে। এসব খাল শুধু খনন করলেই হবে না, খালপাড়কে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে বিনোদনের স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
 
২০২২ সালে কেডি খাল সংস্কারে প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয় করা হলেও তার সুফল পাননি নগরবাসী। তবে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক জানিয়েছেন, খালটি পুনরুদ্ধার ও সংস্কারে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।
 
এ বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ-উন-নবী ডন বলেন, কেডি খাল রংপুরের ঐতিহ্যবাহী একটি খাল। এটি খনন করে প্রাণ ফেরাতে আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করব। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে খালগুলো সংস্কারে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছি। এক্ষেত্রে নগরবাসীর সহযোগিতা চাই।

আরটিভি/এমএম