images

দেশজুড়ে

৫৮ বছর পর পরিবারের সন্ধান পেলেন দেলোয়ার

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ১০:২১ এএম

প্রায় ৫৮ বছর আগে শৈশবে নিখোঁজ হওয়া দেলোয়ার হোসেন দুলাল চৌধুরী অবশেষে খুঁজে পেয়েছেন তার জন্মপরিচয় ও পরিবারের সন্ধান। এমনি চাঞ্চল্যকর এক বিরল ও হৃদয়বিদারক পুনর্মিলনের ঘটনা ঘটেছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের কালিপুর চৌধুরী বাড়িতে। 

পারিবারিক সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, ১৯৬৯ সালের দিকে মাত্র পাঁচ/ছয় বছর বয়সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন দেলোয়ার হোসেন দুলাল। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ হয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এলাকায় একটি পালক পরিবারের আশ্রয়ে বড় হন। সেখানে স্নেহ-ভালোবাসার মধ্যেই বেড়ে উঠলেও নিজের প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে অজানাই থেকে যান।

সামাজিক বাস্তবতা ও পরিচয় সংকটের প্রশ্ন থেকেই বহু বছর পর পারিবারিক আত্মপরিচয়ের খোঁজ শুরু করেন তার ছেলে ইমাম হোসাইন আকিব। এক পর্যায়ে গত কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে একটি সাধারণ পারিবারিক আলোচনায় বাবার স্মৃতি থেকে উঠে আসে কিছু অস্পষ্ট সূত্র নদী, লঞ্চঘাট, কালিপুর বাজার এবং একটি নাম। সেই স্মৃতির সূত্র ধরেই শুরু হয় দীর্ঘ অনুসন্ধান। প্রযুক্তির সহায়তায় গুগল ম্যাপ, স্থানীয় ইতিহাস এবং এলাকাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয় মেঘনা নদীর তীরবর্তী চাঁদপুর অঞ্চলের একটি এলাকা। পরে স্থানীয় সাংবাদিক ও গবেষকদের সহায়তায় কালিপুর চৌধুরী বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

পাল্টাপাল্টি মামলায় কারাগারে স্বামী-স্ত্রী

কালিপুরে পৌঁছানোর পর দুলাল চৌধুরীর শৈশব স্মৃতির সঙ্গে এলাকার পুরোনো নিদর্শনগুলো মিলতে শুরু করে। বয়োজ্যেষ্ঠরা নিশ্চিত করেন যে, বাড়ির পুরোনো গেট, খালপথ, আমগাছ এবং লবণ তোলা ঘাট নামে পরিচিত একটি স্থান বহু বছর আগে সত্যিই ছিল। একই সঙ্গে জানা যায়, একসময় দুলাল নামে একটি শিশু নিখোঁজ হয়েছিল, যার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রক্তের সম্পর্কের মিল নিশ্চিত হয়। বিশেষ করে জীবিত ভাই মুকুল চৌধুরীর সঙ্গে দেখা হলে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ৫৮ বছরের বিচ্ছেদের অবসান ঘটিয়ে কান্না, আবেগ ও আনন্দে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার।

বর্তমানে দেলোয়ার হোসেন দুলাল চৌধুরী তার নিজ পরিবারে ফিরে গিয়ে স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়দের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হয়েছেন।

এই ঘটনাকে পরিবার ও স্থানীয়রা একদিকে যেমন দীর্ঘ অপেক্ষার সমাপ্তি, অন্যদিকে তেমনি এক বিস্ময়কর মানবিক পুনর্মিলন হিসেবে দেখছেন।

এটি শুধু একটি পরিবারের সদস্যকে ফিরে পাওয়ার ঘটনা নয়, বরং রক্তের টান কখনও মুছে যায় না, তারই এক জীবন্ত উদাহরণ বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

আরটিভি/এমএইচজে