বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ০৬:৪১ পিএম
মোবাইলে এক অ্যাপসের মাধ্যমে রিয়া আক্তার নামে কুষ্টিয়ার এক মেয়ের সঙ্গে প্রায় আট মাস আগে পরিচয় হয় চীনের নাগরিক এম এ হাইশানের (৩৯)। কথাবার্তার এক পর্যায়ে বন্ধুত্ব, তারপর প্রেম। সেই প্রেমের টানেই সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে উড়ে এসেছেন হাইশান। পেয়েছেন প্রেমিকার দেখাও। কিন্তু, বিয়ে না করেই খালি হাতে নিজ দেশে ফেরত যেতে হচ্ছে তাকে।
বুধবার (১০ জুন) কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের উত্তর পার সাঁওতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে একটি অ্যাপসের মাধ্যমে কুমারখালীর রিয়ার সঙ্গে চীনা নাগরিক হাইশানের পরিচয় হয়। দুজনের মধ্যে পরিচয় ও কথাবার্তার একপর্যায়ে বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব থেকেই তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সেই প্রেমের টানে বুধবার (১০ জুন) সকালে চীনের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন হাইশান। তাকে রিসিভ করে কুমারখালী নিজ বাড়িতে নিয়ে যান রিয়া ও তার দাদি। বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার উদ্দেশে তিনি কুমারখালী ত্যাগ করেন।
রিয়া আক্তার বলেন, প্রায় আট মাস আগে অ্যাপসের মাধ্যমে আমাদের পরিচয় হয় এবং বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বুধবার বিকেলে আমাদের বাসায় আসেন, আমি আর আমার দাদি তাকে ঢাকা এয়ারপোর্টে আনতে গিয়েছিলাম। আমি এবার এসএসসি পরিক্ষার্থী, আমার বয়স কম থাকায় পরিবারসহ অনেকে বিয়েতে অসম্মতি জানিয়েছেন এজন্য আমরা বিয়ে করছি না। হাইশান আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে ঢাকা উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন আমাদের বাসা থেকে।
রিয়া আরও বলেন, আমি অপেক্ষা করবো যতদিন পর্যন্ত না আমার বিয়ের বয়স হয়। আর তখন যদি সে না আসে তাহলে আমি আমার জন্য নতুন করে ভাববো।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেয়ের মা জানান, ওই লোকের সঙ্গে আমার মেয়ের পরিচয় হওয়ার পর সে আমাকে বিষয়টি বলেছে। গতকাল সে বাংলাদেশে এসেছে। মেয়ের বয়স না হওয়ায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিয়ে দেব না।
এ বিষয়ে চীনা নাগরিক এম এ হাইশান মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে ট্রান্সলেট করে বলেন, আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক থেকে প্রেম। এসেছিলাম বিয়ে করে দেশে ফিরবো। কিন্তু, কিছু সমস্যার কারণে বিয়েটা হচ্ছে না। তবে, আমি দেড়বছর অপেক্ষা করবো আমার প্রিয়তমার জন্য।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আমাদের এই গ্রামে এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। চীন থেকে ওই লোক এসেছে আমাদের গ্রামের মেয়েকে বিয়ে করতে। তার সম্পর্কে তো আমরা কিছু জানি না। তাছাড়া তার ভাষাও আমরা বুঝি না। আশপাশের লোকজন তাকে দেখার জন্য আসছেন।
চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এনামুল হক মনজু বলেন, প্রেমের সম্পর্কের জেরে চীনা লোক এসেছে আমাদের গ্রামে। রাতে প্রশাসন ও আমরা পাহারা দিয়েছি। আশা করি, মেয়ের পরিবার বিষয়টি বুঝতে পেরেছে, এজন্য তারা মেয়েকে বিয়ে দিতে আগ্রহী নন। আর মেয়ে কেবল এসএসসি পরিক্ষার্থী, বয়সও কম। এজন্য দুপুরে প্রশাসনের সহায়তায় চীনা ব্যক্তিকে তার দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। ওই চীনা ব্যক্তি বর্তমানে তার দেশে ফেরত গেছেন। আমরা সব সময় বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছিলাম। আসলে পরিবার বুঝতে পেরেছে তাদের মেয়ের বয়স কম। এ জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের পক্ষে কোনো অনুমতি দেয়নি।
আরটিভি/এসএইচএম