শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ , ০২:১০ পিএম
বৃহত্তর যশোরের ‘মুজিব বাহিনী’র প্রধান আলী হোসেন মনি মারা গেছেন (ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।
শুক্রবার (১২ জুন) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
এর আগে, গত সোমবার আলী হোসেন মনিকে অসুস্থ অবস্থায় এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবন্তী হলে মঙ্গলবার রাতেই তাকে আইসিইউতে স্থানান্তরিত করা হয়। হার্ট, কিডনি, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মে শহরের রেল বাজারের নিজ বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়েন আলী হোসেন মনি। সঙ্গে সঙ্গে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। দুই দিন বাদে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় তার চিকিৎসা কার্যক্রম সার্বিকভাবে তদারকি করেন যশোর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এরপর কিছুটা উন্নতি হলে যশোরে নিয়ে আসা হয়। কিছুদিন পর আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে গত সোমবার আবারও যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর উপ-প্রধান মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম জানান, মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনির সহধর্মিণী এবং একমাত্র ছেলে রাজেন আলী রাজু আগেই মারা গেছেন। দেশে ফিরে বাবার চিকিৎসা দেখভাল করছিলেন কানাডা প্রবাসী একমাত্র মেয়ে ফারজানা আলী। শুক্রবার আসর বাদ যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠে জানাজা শেষে সদরের কাজীপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। আলী হোসেন মনি শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। ইতিহাসের বাঁকবদলের সাক্ষী ছিলেন। সংগ্রামী এই মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে মুক্তিযোদ্ধারা শোকাহত।
এদিকে শুক্রবার সকালে মৃত্যুর পরে তার লাশ নিজ বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন রাজনীতিক ও সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শোকাহত পরিবারের সমবেদনা জানাতে ছুটে যান মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই থেকে ও জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের সূত্রে জানা যায়, আলী হোসেন মনি ৬০ এর দশকে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। ৬ দফা, ৬৯ তৎকালীন স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সংগঠক ছিলেন। পরিবারকে না জানিয়ে ১৯৭১ সালে প্রথম ব্যাচে ভারতের দেরাদুনে যুদ্ধের ট্রেনিং এ অংশ নেন। ট্রেনিং শেষে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। দেশ স্বাধীনের পরে জাসদ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন এবং পরবর্তী সময়ে জেলা জাসদের সভাপতি ছিলেন। দলের বিভক্তি হলে তিনি জাসদের (ইনু) জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ সালে বিভক্ত জাসদ ঐক্যবদ্ধ হলে আলী হোসেন মনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হন। জেলা আওয়ামী লীগের কোনও পদে না থাকলেও সব নির্বাচনে দলটির পক্ষে প্রচারণায় থাকতেন তিনি।
আলী হোসেন মনি ১৯২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের কাজীপুর গ্রামে পৈত্রিক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যশোর মুসলিম একাডেমি থেকে এসএসসি, এম এম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
আরটিভি/এসএইচএম