images

দেশজুড়ে

ভারত থেকে আসা তরুণীকে নিয়ে বিপাকে দরিদ্র এক পরিবার 

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ , ০২:১৬ পিএম

ভারত থেকে আসা তরুণীকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে দরিদ্র এক পরিবার। পুরুষ বিহীন ওই সংগ্রামী পরিবারে মা-মেয়ের ভাতের নিশ্চয়তাই নেই। সেই পরিবারে অচেনা তরুণীর থাকা খাওয়া এবং নিরাপত্তা শঙ্কামুক্ত নয়।

মানসিক ভারসম্যহীন ওই তরুণী নিজের পরিচয়ও ঠিকঠাক বলতে পারে না। প্রশাসনিকভাবেও তার নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থা নেই। তরুণী তার নিজ পরিবারে ফিরে যাবে এমন প্রত্যাশায় অপেক্ষা করছেন ওই দরিদ্র পরিবারটি।

জানা গেছে, মেহেরপুরের তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্ত দিয়ে সম্প্রতি এক তরুণী বাংলাদেশ প্রবেশ করে। সীমান্ত এলাকা দিয়ে  পিরতলা গ্রামের একটি বাড়ির সামনে অবস্থান নেয়। ভারত থেকে পুশ ইন হয়ে এসেছে এমন খবরে তাকে দেখতে  ভিড় জমায় স্থানীয়রা। দিন পার করে রাতের অন্ধকার নামলেও ওই তরুণী টগর খাতুনের বাড়ির সামনেই অবস্থান করছিল। তার নিরাপত্তার কথা ভেবে রাতে ঘরে আশ্রয় দেন টগর। বৃদ্ধ মা জাহানারা এবং টগর খাতুন মিলে কয়েকদিন ধরে তার দেখাশোনা করছেন। ভারতের জেল থেকে এসেছে এবং বাড়ি চট্রগ্রাম এইটুকু ছাড়া আর কিছুই বলতে পারে না ওই তরুণী। তাই পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারছে না।

স্থানীয়রা জানান, তরুণী তাদেরকে জানিয়েছেন ভারতের জেল থেকে ছাড়া পেয়ে অন্য মানুষের সাথে সে সীমান্ত দিয়ে এসেছে। তার নাম বলেছে কথনও রোজিনা, কখনও মর্জিনা। পিতার নাম বলেছে আব্দুল মালেক। এর বেশি কোন কথা বলে না। মেয়েটি অসুস্থ। মানসিক ভারসম্যহীন অবস্থায় রয়েছে। মানসিক নির্যাতনের মুখে এমন হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন এলাকার অনেকে। তবে সে ভারতীয় না বাংলাদেশী তা নিশ্চিত হতে পারছেন না এলাকার মানুষ।

বাড়ির মালিক টগর খাতুন বলেন, মেয়েটি বড় অসহায়। অনেক চেষ্টা করেও তার মুখ থেকে কথা বের হয় না। গতকাল কথা বলেছিল। তার বাড়ি চট্রগ্রামের পটিয়া। মোবাইলে একটি নাম্বার তুলে দিয়েছিল। এয়ারটেল নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তার খাওয়া, গোসল এবং নিরাপত্তা সবই আমরা দেখছি। কিন্তু আমাদের বাড়িতে পুরুষ মানুষ নেই। পরের বাড়িতে কাজ করে আমি আর আমার মা কোনমতে বেঁচে আছি। এই মেয়েটিকে আমার বাড়িতে রাখা  সম্ভব না। তাকে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিলে রক্ষা  পেতাম।

স্থানীয়রা তার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছেন। তাদের মধ্যে একজন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন সহযোগিতা করা হচ্ছে না। এভাবে আমরা কতদিন রাখতে পারব তা ভেবে পাচ্ছি না।

স্থানীয়রা জানান, বাড়ির মোবাইল নাম্বার হিসেবে একটি এয়ারটেল নাম্বার দিয়েছে তরুণী। কিন্তু কয়েক দিন ধরে মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তবে যেকোন উপায়ে তরুণী তার পরিবার ও স্বজনদের কাছে ফিরে যাক এটাই চাওয়া এলাকাবাসীর।

আরও পড়ুন
90olk

হজযাত্রীর লাগেজ নিয়ে তুমুল মারামারি

জানতে চাইলে কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুহা. আলম হুসাইন বলেন, তরুণীর দেওয়া মোবাইল নম্বরের সুত্র ধরে স্বজনদের খোঁজ করা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ তার খোঁজ রাখছে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, তরুণীর নিরাপত্তা ও খাওয়ার দাওয়ার বিষয়ে কোন অসুবিধা যেন না হয় সে লক্ষ্যে চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরটিভি/এসএস