শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ , ০৭:১০ পিএম
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ সময় খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমান নাঈমকে বলেন, ‘চোখ নামিয়ে কথা বল’। এ ঘটনায় পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগে অংশ নেওয়ার পর চট্টগ্রামে বিমানবন্দর থেকে সিএনজিযোগে বাড়ি ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে।
নাঈম হাসানের অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা থেকে প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে বিমানযোগে চট্টগ্রামে পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। পথে লালখানবাজার এলাকায় পৌঁছালে ডিবি পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি তার গাড়ির গতিরোধ করেন এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নামিয়ে আনেন।
তিনি জানান, প্রথমে তার পরিচয়পত্র ও ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করা হয়। একপর্যায়ে সাদা পোশাকে থাকা একজন ব্যক্তি এবং পুলিশের পোশাক পরিহিত দুই সদস্য তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন। এতে আপত্তি জানালে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার।
নাঈম হাসান বলেন, গলা টিপে ধরে বলল, তুই আসামি, কথা বলবি না। আমি বারবার বলেছি আমি জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। কিন্তু তারা আমার কথা শুনতে চায়নি।
তার দাবি, নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও হেনস্তা বন্ধ হয়নি এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন নাঈম হাসান ও তার পরিবারের সদস্যরা। চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর নাঈম বর্তমানে চট্টগ্রামে নিজ বাসায় রয়েছেন।
২৬ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি স্পিনার বলেন, আমার প্রিমিয়ার লিগে খেলা চলছিল, আমার ফ্লাইট বিলম্ব হয়েছে। এয়ারপোর্ট থেকে সিএনজি নিয়ে আসতেছিলাম, ১১টা ২৫ এর দিকে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের নিচে আমার সিএনজি দাঁড় করাল, ড্রাইভারের থেকে কাগজপত্র নিলো। আমি পুলিশকে বললাম, আপনি আমার ব্যাগ চেক করেন দরকার হলে।
নাঈম বলেন, আমাকে গলা চিপে ধরে বললো তুই গাড়িতে উঠ। এই বলে আমাকে গাড়িতে তুলল। আমি বললাম আপনি আমার গলা টিপে ধরছেন কেন, বলে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে গেলাম। এরপর ওরা গলা টিপে ধরেই আমাকে মেরেছে এবং হেনস্থা করেছে। পুলিশ ছিল দুজন, আরেকজন পাঞ্জাবি পরা মানুষ ছিল। ও কোনো পরিচয় দেয়নি, মারতেছিল পাইপ দিয়ে। পরে ১০০-২০০ মানুষ ছিল সেখানে, তারা আমার পরিচয় দিয়েছে, তবুও আমাকে মারতেছিল। বলতেছিল তুমি আসামি, কথা বলবি না। আমি আইডি কার্ড দেখিয়েছি, তাও ওরা আমাকে মারছিল।
পরে নাঈমকে খুলশি থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান তিনি, গাড়িতে থাকতেই ওসির সঙ্গে কথা বলছে, উনি থানায় নিয়ে আসতে বলেন। এরপর আমাকে ব্যাগসহ এখানে এনে বলা হয় স্যার (ওসিকে) নিয়ে আসছি। আজ পর্যন্ত পুলিশ, আর্মি আমাদেরকে ডাকলে নামি, উনারা চেক করে ছেড়ে দেয়। কিন্তু গায়ে হাত দেবে কেন? সোর্সটা মারছে, পুলিশও লাঠি দিয়ে মারছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই। এটা স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার কিছু নাই। আজকে আমাকে মারছে, আরেকদিন অন্য কাউকে মারলে তার জন্য কেউ আসবে?
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগের পর এই ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় নাঈমকে, মোবাইল হাতে পাওয়ার সাথে সাথে তামিম ভাইয়ের সাথে কথা বলেছি। উনি এরপর ওসির সঙ্গে কথা বলছেন, আব্বুর সাথে কথা বলছিলেন। এটার বিচার হবে আশ্বস্ত করেছেন।
জাতীয় দলের এই ক্রিকেটারের দাবি, পুলিশের গাড়ি তো ছিল সেখানে। গাড়িতে না তুলে সিএনজিতে করে আমাকে কই নিয়ে যাইতো?.. আমার জায়গায় যদি সাধারণ মানুষ হইতো আপনারা কেউ আসতেন না, একশ-দেড়শ মানুষ কোশ্চেন করতো না। পুলিশের হাতে যদি মানুষ সেইফ না থাকে তাহলে আর লাভ কী!
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো.আমিরুল ইসলাম বলেন, উনি (নাঈম হাসান) ন্যায় বিচার পাবেন। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। পুলিশ সদস্য যেই হোক না কেন, আমরা এই ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। কারণ এটার সঙ্গে পুলিশের ইমেজ জড়িত। আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্নে কাজ করতেছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো কিছুই টলারেট করব না।
উল্লেখ্য, নাঈম হাসান জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন শেষ ৫ বছর ধরে। আসন্ন জিম্বাবুয়ে সফরের টেস্ট দলেও আছেন তিনি।
আরটিভি/এসআর