images

দেশজুড়ে

ক্লিনিকের এসির ভেতর থেকে কালনাগিনী সাপ উদ্ধার

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬ , ০৮:০৪ পিএম

বরিশালে নগরীর সাগরদীতে একটি ক্লিনিকে চার ফুট দীর্ঘ এক কালনাগিনী সাপ উদ্ধার করেছে এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর সদস্যরা।

রোববার (১৪ জুন) দুপুর ৩টার দিকে বরিশাল মেডিকেল সার্ভিসেস নামক ক্লিনিকের এসির মধ্য থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়।

প্রতিষ্ঠানের মালিক পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. এসএম আবুল হাসান জানান, ক্লিনিকের এসি খুলে বাসায় নেয়ার জন্য কোম্পানির লোক আসে। তারা এসি খুলতে গিয়ে ভেতরে দুটি সাপ দেখতে পেয়ে আতঙ্কে ডাক-চিৎকার শুরু করে।

আরও পড়ুন
Web-Image

ডিআইজির কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে দুটি কালনাগিনী সাপ, অতঃপর...

পরে ৯৯৯-এ কল করে সহযোগিতা চাইলে তারা এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর পরিচালক আসাদুল্লাহ হাসান মুসার নম্বর দেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দুপুর ২টার দিকে মুসা ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর পরিচালক আসাদুল্লাহ হাসান মুসা জানান, দুপুর ২টা থেকে টানা দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় প্রায় চার ফুট দীর্ঘের কালনাগিনী সাপটি উদ্ধার করেন।

তিনি বলেন, ক্লিনিকের পেছনে অনেক ঝোপ-ঝাড় রয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে সেখান থেকে এসির পাইপ বা দেয়ালের ফাঁকা জায়গা থেকে সাপটি এসির ভেতরে ঢুকেছে। তবে ক্লিনিকের লোকেরা দাবি করেছে- তারা দুটি সাপ দেখেছে। কিন্তু সেখানে একটি সাপ পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া সাপটি প্রাপ্ত বয়স্ক হলেও এ সাপ মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। সাপটি বন বিভাগে হন্তাস্তর করা হয়েছে।

এর আগে, গত ৭ ও ৮ জুন বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে ডিআইজির কক্ষ থেকে দুই জোড়া অর্থাৎ ৪টি মৃদু বিষধর কালনাগিনী সাপ উদ্ধার করে এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর সদস্যরা। অফিস, ক্লিনিক থেকে একের পর এক সাপ উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে নাগরিকরা।

এদিকে, সাপ দুটি নিরাপদে উদ্ধার করায় ‘এনিমেল লাভার্স অব কলাপাড়ার’ সদস্যদের প্রশংসা করেন বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা। তিনি জানান, দেশে পাওয়া দৃষ্টিনন্দন সাপগুলোর মধ্যে কাল নাগিনী (Ornate Flying Snake) অন্যতম। অঞ্চলভেদে সাপটিকে উড়াল সাপ, সুন্দরী সাপ, কাল সাপ ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়। ইংরেজি নামের সঙ্গেও ‘ফ্লাইং স্নেক’ রয়েছে, তবে সাপটি মোটেও উড়তে পারে না। এটি গাছের উঁচু ডাল থেকে নিচু ডালে লাফিয়ে নামে। কাল নাগিনী দিবাচর ও শান্ত স্বভাবের সাপ। খুব বেশি বিরক্ত না হলে কামড়ায়ও না। এরা গিরগিটি, বাদুড়, ইঁদুর, ছোট পাখির ডিম ও কীটপতঙ্গ খায়। এরা সাধারণত পোকামাকড়, টিকটিকি, গিরগিটি, ব্যাঙ ও ছোট পাখি ইত্যাদি খায়। সাধারণত মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত এদের প্রজনন মৌসুম। সাপটি একবারে ৬-১২ টি ডিম পাড়ে যা থেকে দুইমাস পর বাচ্চা ফোটে।

তিনি বলেন, কাল নাগিনী নির্বিষ সাপ। অথচ নাটক-সিনেমায় কাল নাগিনীকে ভয়ংকর বিষধর সাপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে মানুষ সাপটি দেখামাত্রই মেরে ফেলে। এতে সুন্দর প্রাণীটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

আরটিভি/এমএম