রোববার, ১৪ জুন ২০২৬ , ০৮:২৭ পিএম
ঝিনাইদহের মহেশপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ কৃষক লীগের ওয়ার্ড সভাপতির বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তার জমি দখলে রেখে অন্যের জমির ওপর দিয়ে রাস্তার নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের যোগীহুদা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে কয়েক দফায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে কোনো প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগী জমির মালিক গোলাম মোস্তফা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ফতেপুর ইউনিয়নের ১০৭ নং যোগীহুদা মৌজার আর এস ২৯৪, ২৯৫ ও ২৯৬ নং দাগের ১০০ শতক জমির মালিক গোলাম মোস্তফা। ওই ৩টি দাগের জমির দুই পাশ দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ কৃষক লীগের সভাপতি মফিজ উদ্দিন। এছাড়াও আর এস ২৯৪ দাগে রাস্তা নির্মাণ করা পর এক পাশে পড়ে থাকা জমি টুকুও নিজে দখল করেছেন তিনি।
এদিকে ওই জমির পাশে আর এস ৩১৮ ও ৩২০ দাগে সাবেক ও বর্তমান দুটি ম্যাপে সরকারি রাস্তার উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ম্যাপের রাস্তার চতুর পাশের জমি মফিজ উদ্দিনের হওয়ায় তিনি সেগুলো দখল করে রেখেছেন। তৎকালীন আওয়ামী লীগের সময়ে অবৈধভাবে মফিজ উদ্দিন বালু উত্তোলন করায় সরকারি রাস্তার জমি পুকুরে পরিণত হয়েছে। সরকারি রাস্তার জমি নিজ দখলে রাখতে মূলত তিনি পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিমালিকানা জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করে দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী গোলাম মোস্তফা বলেন, ১শ শতক জমির দুই পাশ দিয়ে রাস্তা করেছেন মফিজ উদ্দিন। তিনি আওয়ামী লীগের ক্ষমতা বলে আমাকে না জানিয়ে ওই রাস্তা করেছেন। রাস্তা ওই পাশের জমি টুকুও তিনি নিজে দখল করে ব্যবহার করছেন। এছাড়াও সরকারি ম্যাপের রাস্তার জমি তিনি দখল করে বালু উত্তোলন করায় রাস্তাটি পুকুরে পরিণত হয়েছে। আমি এ ব্যাপারে এসিল্যান্ডের কাছে কয়েকবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
স্থানীয় ইব্রাহিম বলেন, সরকারি ম্যাপের রাস্তার জমিগুলো মফিজ উদ্দিন দখল করে রেখেছেন। তিনি বালু উত্তোলনের সময় আমরা বাধা দিয়ে ছিলাম কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।
মফিজ উদ্দিন বলেন, গোলাম মোস্তফার নিজের উপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদ রাস্তা করে দিয়েছে। উনি জমি কেনার আগে থেকেই এখান দিয়ে হাঁটা রাস্তা ছিল। সরকারি ম্যাপের রাস্তার চতুর পাশে আমার জমি। সে ক্ষেত্রে রাস্তাগুলো আমার জমির মধ্যে রয়েছে কিন্তু ওইটা আলাদা দাগের জমি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, এ ব্যাপারে নোটিশ করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরটিভি/এমএম