images

দেশজুড়ে

প্রেমের টানে আরব থেকে পদ্মাপাড়ে: আজ বিয়ে সলেমান-সুবর্ণার

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ , ০৪:৫৯ পিএম

​প্রেমের কোনো ভৌগোলিক সীমানা নেই—এ কথারই যেন বাস্তব উদাহরণ সৃষ্টি করলেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের সাবেক লাউখোলা গ্রামের তরুণী সুবর্ণা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক সলেমান। দুই বছর আগে আবুধাবির একটি পার্কে পরিচয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া বন্ধুত্ব রূপ নেয় ভালোবাসায়। আর সেই সম্পর্কের সফল পরিণতি হিসেবে সোমবার (১৫ জুন) বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছেন তারা।

​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর দুই পরিবারের সম্মতিতেই এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। বিয়েকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। রোববার রাতে জমকালো আয়োজনে তাদের গায়ে হলুদ সম্পন্ন হয়েছে। আজ বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা উপলক্ষে কনে সুবর্ণার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রায় দুই হাজার অতিথির আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

​পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান সুবর্ণা। সেখানে আবুধাবির একটি পার্কে সলেমানের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয়। শুরুতে সাধারণ বন্ধুত্ব থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা গভীর প্রণয়ে রূপ নেয়। একপর্যায়ে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজ নিজ পরিবারকে জানান। পরবর্তীতে উভয় পরিবারের সম্মতিক্রমেই এই বিয়ের আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন
Web-Image15

পদ্মায় গরুবোঝাই ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর সলেমান পূর্বে বিবাহিত এবং তিনি তিন সন্তানের জনক। এ বিষয়টি সুবর্ণা এবং তার পরিবার অবগত রয়েছেন। মূলত পারস্পরিক বোঝাপড়া ও পারিবারিক সম্মতিক্রমেই তাদের এই বিয়ে সম্পন্ন হচ্ছে।

​এই ব্যতিক্রমী বিয়েকে কেন্দ্র করে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও এই আয়োজন নিয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

​নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সুবর্ণা বলেন,​ আমরা একে অপরকে পছন্দ করি। দুজনের সম্মতি এবং উভয় পরিবারের ইতিবাচক সাড়ার ভিত্তিতেই আমরা বিয়ে করছি। আমাদের নতুন জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।

বর সলেমান গণমাধ্যমের সামনে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দুবাই পুলিশে কর্মরত থাকায় পেশাগত কারণে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছেন বলে জানা গেছে।

​এই আন্তর্জাতিক বিয়ে নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও চলছে নানা ইতিবাচক আলোচনা। অনেকেই এটিকে ভিন্ন দুই সংস্কৃতির মানুষের মেলবন্ধনের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ভালোবাসা ও পারিবারিক সম্মতির মাধ্যমে বিয়ে হচ্ছে, এটি অত্যন্ত ইতিবাচক। আমরা শুধু চাই মেয়েটি যেন প্রবাসের মাটিতে সুখে-শান্তিতে জীবন অতিবাহিত করতে পারে।

​ভিন্ন দুই দেশের এই দম্পতির জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, সুন্দর বোঝাপড়ার মাধ্যমে তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের ও সফল হবে।

আরটিভি/এমএম