images

দেশজুড়ে

নির্বিচারে কুকুর মারছেন জুলু, ঘটনা কী

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ০৮:০৯ পিএম

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বারুহাস বাজারে ছাগল কামড়ানোর জেরে দেশীয় ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুকুর হত্যায় মেতে উঠেছেন মো. জয়নুল আবেদীন ওরফে জুলু খন্দকার (৬০) নামে এক জুতা ব্যবসায়ী।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে জুলু খন্দকারের পালিত একটি ছাগলকে বাজারের একটি কুকুর কামড়ে দেয়। এর প্রতিশোধ নিতে তিনি একটি ধারাল লোহার ফালা জাতীয় অস্ত্র তৈরি করেন। সোমবার (১৫ জুন) রাতে তিনি সেই অস্ত্র দিয়ে দুটি কুকুরকে হত্যা করেন এবং আরও বেশ কয়েকটি কুকুরকে মারাত্মকভাবে জখম করেন। জখম হওয়া একটি কুকুরের শরীর ভেদ করে অস্ত্রটি এপার-ওপার হয়ে যায়। রক্তাক্ত ও আর্তনাদরত কুকুরের দৃশ্য দেখে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

এ ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। ছবি ও ভিডিও দেখে নেটিজেনরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় তোলেন এবং অভিযুক্ত জুলু খন্দকারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

প্রাণীপ্রেমী সংগঠন ‘ভিলেজ ভিশন’-এর পরিচালক শরীফ খন্দকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, কুকুর নিধনের ঘোষণা দিয়ে প্রাণীর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

জাকির আকন্দ নামে এক কলেজ শিক্ষক ও সাংবাদিক মন্তব্য করেন, প্রত্যেক প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শনের নির্দেশনা ইসলামেও রয়েছে।

মো. মেহেদী হাসান নিরব নামে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, এটি কোনো মানুষের কাজ হতে পারে না। আমি সামনে থেকে ঘটনাটি দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ জেড এম নাহিদ হাসান এবং তাড়াশ থানা পুলিশ অভিযুক্তের বাড়িতে অভিযান চালায়। তবে বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তারা কাউকে পাননি। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানা গেছে, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জুলু খন্দকার পরিবারসহ পালিয়ে গেছেন।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

ভাগনের সঙ্গে পালিয়েছেন স্ত্রী, দেশে ফিরে যে কাণ্ড প্রবাসীর

এ বিষয়ে জানতে জয়নুল আবেদীনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ জেড এম নাহিদ হাসান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখার পর ব্যবস্থা নিতে আমরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে গিয়েছিলাম। কাউকে না পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরটিভি/এমএইচজে