বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ , ১১:০৮ পিএম
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। খালার বাড়ি থেকে ফেনীতে ফেরার পথে তুলে নিয়ে রাতভর তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কিশোরীর মায়ের জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ করা ফোনকলের পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পলাতক রয়েছেন আরও একজন।
এ ঘটনায় বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় তিনজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। বুধবার রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের অষ্টগ্রাম মোল্লাবাড়ির মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ফয়েজ আহমেদ (২৬) এবং একই গ্রামের জয়নাল আহম্মদের ছেলে সিএনজিচালক রিয়াজ মোল্লা (২১)। মামলার অপর আসামি আকরামকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মামলার এজাহার, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। কিছুদিন আগে পড়াশোনা বন্ধ করে তিনি মায়ের সঙ্গে ফেনীতে বসবাস শুরু করেন। গত সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে নাঙ্গলকোট উপজেলার তেতিয়া এলাকায় খালার বাড়ি থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ফেনীর উদ্দেশে রওনা হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বোড়রা এলাকায় পৌঁছালে প্রথম সিএনজিচালক গাড়ি বিকল হওয়ার অজুহাতে তাকে অন্য একটি সিএনজিতে তুলে দেন। ওই সিএনজির চালক রিয়াজ মোল্লা জাকিরের মোড় এলাকা থেকে তার সহযোগী ফয়েজ আহমেদকে গাড়িতে তোলেন। এরপর ফেনীতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চৌদ্দগ্রামের পদুয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানোর পর রাত ৮টার দিকে একটি টিনশেড ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রিয়াজ, ফয়েজ ও তাদের সহযোগী আকরাম রাতভর কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর মা জানান, সারা রাত মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে তিনি উৎকণ্ঠায় ছিলেন। পরদিন সকালে স্থানীয় লোকজন মেয়েটিকে ফেনীর বাসায় পাঠিয়ে দিলে সে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে পুরো ঘটনা জানায়। পরে মেয়েকে নিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে এসে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান।
৯৯৯-এর পুলিশ পরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা) আনোয়ার সাত্তার জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক মা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে তার মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ করেন। কলটি গ্রহণ করেন কনস্টেবল শিল্পী। পরে ৯৯৯-এর ডিসপাচার এসআই আওলাদ হোসেন বিষয়টি সমন্বয় করে দ্রুত নাঙ্গলকোট থানাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
খবর পেয়ে নাঙ্গলকোট থানার এসআই আলমগীরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ফয়েজ আহমেদ ও রিয়াজ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযানে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারকৃতদের কুমিল্লা আদালতে প্রেরণ করা হবে এছাড়াও ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।
আরটিভি/এসএস