images

দেশজুড়ে

আমি আরিশাকে পানিতে চুবিয়ে মেরেছি: হত্যার অভিযুক্ত কিশোরী

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ , ১১:২১ পিএম

গাজীপুরের কালীগঞ্জে আড়াই বছরের এক শিশুকে পানিভর্তি বালতিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগে, ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী নিজেই থানায় গিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে কালীগঞ্জ থানায় এসে অভিযুক্ত কিশোরী কর্তব্যরত কর্মকর্তার (ডিউটি অফিসার) কাছে বলে, আমি শিশু আরিশাকে বালতির পানিতে চুবিয়ে মেরেছি, আমাকে হাজতে ভরেন।

নিহত আরিশা আক্তার (আড়াই বছর) রাজবাড়ী জেলার সদর উপজেলার আকাশ শেখের মেয়ে। তার বাবা-মা গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন এবং স্থানীয় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

কালীগঞ্জ থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা (ডিউটি অফিসার) জোনাকি ঘটনার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্ত কিশোরী জানান, তার মা ছোট্ট আরিশাকে বেশি আদর করতেন। এ ছাড়া শিশুটি বারবার তার কাছে বিস্কুট চাইছিল। তবে নিহত শিশু বা তার পরিবারের সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা ছিল না বলেও জানান তিনি।

অভিযুক্ত কিশোরীর ভাষ্য অনুযায়ী, আমি ঘরের ভেতরে ছিলাম। বাইরে এসে দেখি আরিশা টিউবওয়েলের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে একটি খালি বালতি ছিল। পরে আমি বালতিতে পানি ভরে তার পা ধরে উল্টো করে প্রায় পাঁচ মিনিট পানিতে চুবিয়ে রাখি।

খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শিশু আরিশার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

আরিশার মা জানান, ঘটনার সময় তিনি ও তার স্বামী ঘরে বসে স্বামীর চাকরি-সংক্রান্ত একটি সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। কিছুক্ষণ পর মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে টিউবওয়েলের পাশে থাকা একটি বালতির মধ্যে শিশু আরিশাকে দেখতে পান। সেখান থেকে দ্রুত উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা ভেবেছিলাম মেয়েটি হয়তো গোসল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। পরে পুলিশ এসে জানায়, বাড়িওয়ালার মেয়ে থানায় গিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

শিশু আরিশার বাবা আকাশ শেখ বলেন, আমি কিছু সময়ের জন্য কারখানায় গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি আমার মেয়ে ও বাড়িওয়ালার মেয়ে (অভিযুক্ত কিশোরী) একসঙ্গে খেলছে। এমনকি সে আমার মেয়েকে টোস্ট বিস্কুটও খেতে দিয়েছিল। পরে ঘরে চলে যাই। প্রায় আধাঘণ্টা পর মেয়েকে আনতে বললে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বালতির ভেতরে তাকে পাওয়া যায়।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইমরান হোসেন বলেন, দুপুর সোয়া ১টার দিকে শিশু আরিশাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনেরা। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত কিশোরীর বক্তব্যসহ সব বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরটিভি/টিআর