সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ , ০৫:৩০ এএম
শরীয়তপুরে পাঁচ বছর বয়সী এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ইমরান ছৈয়ালকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা।
রোববার (২১ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার ধানুকা এলাকার দারুল আরকান ইবতেদায়ী মাদরাসায় তাকে আটকে রাখেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে পালং মডেল থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ইমরান ছৈয়াল দারুল আরকান ইবতেদায়ী মাদরাসার অফিস সহকারীর পাশাপাশি শিশুদের কুরআন ও বাংলা পড়াতেন।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন শেষে ভয়ভীতি দেখাতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি আরেক শিশুকে যৌন নিপীড়ন করলে শিশুটি পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। তবে তারা শিশুটির কথায় প্রথমদিকে তেমন গুরুত্ব দেননি। সবশেষ ১৮ জুন তিনি আবারও শিশুটির শরীরে হাত দিলে মাদরাসা শেষে শিশুটি বিষয়টি পরিবারের কাছে জানায়। পরে তারা মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্তকে খুঁজে পাননি। পরবর্তীতে রোববার সকালে পুনরায় মাদরাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় ইমরানকে আটক করেন এবং পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেন, কয়েকদিন ধরে আমার মেয়ে এসে শিক্ষকের বিরুদ্ধে এসব কথা বলে, কিন্তু আমি বিষয়টি বিশ্বাস করিনি। কিন্তু বৃহস্পতিবার আবারও মেয়ে এসে বলে শিক্ষক ইমরান তার শরীরে হাত দিয়েছেন। পরে সেদিন আমরা গিয়ে তাকে পাইনি। আজ এসে এলাকাবাসীর সহায়তায় তাকে ধরেছি পরে শুনি শুধু আমার মেয়ে না এরকম একাধিক শিশুর সঙ্গে তিনি এ কাজ করেছেন। আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন বলেন, অনেক বাচ্চারা তার মায়েদের বিষয়টি বলেছিল। কিন্তু তারা লোকলজ্জায় কাউকে কিছু বলেনি। আজ যখন এক অভিভাবক প্রতিবাদ করেছে তখন সবাই এসে জড়ো হয়ে বিষয়টি খুলে বলেছে। আলেমরা সমাজের দর্পণ, তারা যদি এমন কাজ করে তাহলে আমরা কোথায় যাব? আমরা এই অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা চাই।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, স্থানীয়রা ওই শিক্ষককে আটকে রেখেছিল। আমরা খবর পেয়ে ধানুকা এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করেছি। আমিও ভুক্তভোগী শিশু ও তার অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলেছি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
আরটিভি/এমএইচজে