সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ , ০৭:১৬ পিএম
হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘি থেকে উদ্ধার করে পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনা কুমিরটি ১৯ দিন ধরে কোনো খাবার গ্রহণ করছে না।
কর্মকর্তাদের মতে, কুমিরের শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে দীর্ঘ সময় অনাহারে থাকা মোটেও অস্বাভাবিক নয়। তাই বিষয়টিকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
বুধবার (৩ জুন) বাগেরহাটের মাজারের দিঘি থেকে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনা হয়। এরপর থেকে এটিকে মুরগি ও হাঁসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার দেওয়া হলেও প্রাণীটি তা গ্রহণ করেনি। এমনকি খাবার শিকার করার প্রবণতা দেখালেও শেষ পর্যন্ত তা মুখে নেয়নি।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পূর্ণবয়স্ক কুমির একবার পর্যাপ্ত খাবার গ্রহণ করলে কয়েক মাস পর্যন্ত না খেয়েও অনায়াসে টিকে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে মৎস্য বিশেষজ্ঞ মফিজুর রহমান বলেন, কুমির একটি সরীসৃপ প্রাণী। এদের বিপাকীয় কার্যক্রম তুলনামূলক ধীর হওয়ায় দীর্ঘ সময় খাবার ছাড়াই বেঁচে থাকা সম্ভব। একটি সুস্থ কুমির ছয় মাস পর্যন্ত না খেয়েও থাকতে পারে। ফলে উদ্ধার কুমিরটির ১৯ দিন খাবার না খাওয়ার ঘটনায় উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
প্রায় ৫০ বছর বয়সি এই কুমিরটির দৈর্ঘ্য ৭ থেকে ৮ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি। বন বিভাগের ভাষ্য, প্রাণীটি অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত হওয়ায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম চলাফেরা করছে। বর্তমানে প্রতিদিন খাঁচার পানি পরিবর্তন, শরীরে পানি স্প্রে এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এর পরিচর্যা করা হচ্ছে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞ মফিজুর রহমান আরও জানান, আপাতত কুমিরটিকে পুনর্বাসন কেন্দ্রেই রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এটিকে কোথায় স্থানান্তর বা সংরক্ষণ করা হবে, সে বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বন বিভাগ।
উল্লেখ্য, ১ জুন খানজাহান আলী মাজারের দিঘিতে ফাতেমা নামে এক শিশুকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর ওই এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। এর দুই দিন পর বুধবার (৩ জুন) কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনায় নিয়ে আসে বন বিভাগ।
আরটিভি/এসএস