images

দেশজুড়ে

আটক আওয়ামী লীগ নেতাকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিলেন বিএনপি নেতারা

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ , ১০:২৯ পিএম

নাশকতার আশঙ্কায় পুলিশের হাতে আটক হওয়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নেতাকে নিজেদের ‘কর্মী’ দাবি করে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছেন উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা। আটকের ১৩ ঘণ্টা পর মুচলেকা দিয়ে তাকে থানা হেফাজত থেকে মুক্ত করা হয়। বিএনপি নেতাদের দাবি, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ওই ব্যক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে, রোববার দিবাগত রাতে শ্রীপুর থানা পুলিশ তাকে আটক করেছিল।

ছাড়িয়ে নেয়া ওই নেতার নাম মো. লোকমান হোসেন (৫৫)। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কেওয়া দক্ষিণখণ্ড গ্রামের মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে। লোকমান হোসেন ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের গ্রাম কমিটির সহসভাপতি পদে ছিলেন।

লোকমান হোসেনকে ছাড়িয়ে নেয়ার প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব, সদস্য সচিব খাইরুল কবির মণ্ডল আজাদ এবং পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সরকার। থানা হেফাজতে দেয়া মুচলেকায় তারা সবাই স্বাক্ষর করেছেন।
 
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অরাজকতা সৃষ্টির আশঙ্কা ছিল। সেই লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের চিহ্নিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের অভিযান চালানো হয়। লোকমান হোসেনের আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি ও কমিটির তালিকা পাওয়ার পর রোববার রাতে তাকে আটক করা হয়েছিল। তবে আটকের পরপরই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ একাধিক নেতাকর্মী থানায় এসে তাকে নিজেদের কর্মী দাবি করেন এবং মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেন।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খাইরুল কবির মণ্ডল আজাদ বলেন, ‘তিনি আগে আওয়ামী লীগ করতেন ঠিকই, তবে ২৪ আগস্টের পর বিএনপিতে যোগ দেন। মূলত তিনি আগে থেকেই বিএনপি করতেন; মাঝখানে সুবিধা নেয়ার জন্য আওয়ামী লীগ তার ছবি দিয়ে পোস্টার-ব্যানার তৈরি করেছিল। এমনকি আওয়ামী লীগের গ্রাম কমিটিতে যে তার নাম ছিল, সেটি তিনি নিজেও জানতেন না।’
 
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘লোকমান হোসেন এখন আমাদের সক্রিয় কর্মী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, এমনকি গত সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। একটি কুচক্রী মহল বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশকে দিয়ে তাকে আটক করিয়েছিল।’
 
এ প্রসঙ্গে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন জানান, তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি জরুরি মিটিংয়ে থাকায় বিষয়টি সম্পর্কে তখনো বিস্তারিত জানতেন না। তবে পুরো ঘটনার খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আরটিভি/ এসকেডি